রামুতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার জেলা কার্যালয় এ কর্মশালা আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম চৌধুরী। আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কান্তি দে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
‘নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সচেতনতা ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত যায়। প্রত্যাশিত ব্যবহার ও উপযোগিতা বিবেচনায় পরিবারের সদস্যদের জন্য নিরাপদ খাদ্যের সরবরাহ আপনাকে করতে হবে। অনেক সময় অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে নিরাপদ খাদ্যও অনিরাপদ হতে পারে। ভোক্তা হিসেবে আপনাকেই অনিরাপদ খাদ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে ঝুঁকি নিরসন করতে হবে এবং নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।
সচেতনতামূলক কর্মসূচীর এ কর্মশালায় আরও বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ, রামু উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মমতাজ উদ্দিন, উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক (অব:) দুলাল বড়ুয়া প্রমুখ।
প্রবন্ধ উপস্থাপনে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, খাদ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য অপরিহার্য। তবে খাদ্য হতে হবে নিরাপদ। সুস্থ থাকার জন্য খাদ্য নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য হলো এমন খাদ্য যাতে কোনো বিষাক্ত, ক্ষতিকর বা রোগ সৃষ্টিকারী পদার্থ বা অণুজীব থাকে না। অর্থাৎ যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। খাদ্য জীবন রক্ষা এবং শরীর ও মনের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পুষ্টি জোগায়। যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খাদ্য উৎপাদন, বিতরণ, প্রস্তুতি বা গ্রহণের সাথে সম্পৃক্ত তারা সকলে খাদ্য শৃঙ্খলের অংশ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা যেখানে খাদ্য শৃঙ্খলের সকলেরই-সরকার, খাদ্য ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, খাবার যে কোন সময় অনিরাপদ হতে পারে। সরকার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদিত বা আমদানিকৃত খাদ্যের গুণগত ও নিরাপদতার মান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তবে পারিবারিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সকলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। একজন ভোক্তা হিসেবে নিজের ও পরিবারের জন্য যে খাবার তৈরি করেন তার নিরাপদতা রক্ষার দায়িত্ব আপনার।
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালায় আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শত শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক পারিবারিক নির্দেশিকাসহ, সচেতনতামূলক পোস্টার, লিফলেট ও নিরাপদ খাদ্য আইন সম্পর্কিত বই বিতরণ করা হয় ।







