আজ আজীবন বিনয়াকুল ভিক্ষু জীবন যাপনকারী, শুদ্ধাচারী, বিনয়াচার্য, সমাজ সেবায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন, ত্রিপিটক শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘অগ্গমহাসদ্ধম্মজোতিকধজ’ উপাধি প্রাপ্ত সংঘপুরোধা, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সাবেক সভাপতি, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের আজীবন বিহারাধ্যক্ষ, মাননীয় উপসংঘরাজ, পণ্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের ৯৬ তম শুভ জন্মদিন।
জন্মদিন উপলক্ষে রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের সকল দায়ক-দায়িকা বৃন্দের উদ্যোগে এবং গ্রামের যুব সমাজের সার্বিক সহযোগিতায় ভৈষজ্য সংঘদান ও অষ্টপরিষ্কারদান সভার আয়োজন করা হয়েছে। আজ বিকাল ৫টায় রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে উক্ত পুণ্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে ৯৬ তম জন্মদিন উপলক্ষে ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরোর প্রতিকৃতিতে ৯৬টি গোলাপ দিয়ে পূজা, ৯৬টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হবে।
উল্লেখ্য, পণ্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের ১৯৩০ সালের ১০ জুন, রামু উপজেলার মেরংলোয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫০ সালে শ্রামণ্যধর্ম গ্রহণ করেন এবং একই বছরে তিনি পবিত্র উপসম্পদা গ্রহণ করেন। ভিক্ষু জীবনের চার বছরের ব্যবধানে তিনি উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য ১৯৫৪ সালে তৎকালীন বার্মা গমন করেন। সেখানে একাধারে দীর্ঘ দশ বছর ত্রিপিটক শিক্ষা এবং ধ্যান শিক্ষা সম্পন্ন করে পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে নিজ জন্মজনপদে প্রত্যাবর্তন করেন। সেই থেকে আমৃত্যু কাল পর্যন্ত তিনি নিজ গ্রামের রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে অধ্যক্ষ হিসেবে ছিলেন।
পণ্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো তাঁর বর্ণাঢ্য ভিক্ষু জীবনে- তিনি একাধারে বিনয়ধর, ত্রিপিটক শাস্ত্রজ্ঞ, প্রচার বিমুখ সাধক, দক্ষ সংগঠক, সুলেখক, অনুবাদক, বিদগ্ধ সদ্ধর্মদেশক ছিলেন। তাঁর অনুবাদকর্মের মধ্যে ভিক্ষুদের নিত্যপাঠ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় পিটকীয় গ্রন্থ বিনয় পিটকের চুল্লবর্গ অনুবাদকর্ম অনন্য ও অসাধারণ পাণ্ডিত্যের সাক্ষর বহন করে।
ত্রিপিটক শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য তৎকালীন বার্মা সরকার ২০০৩ সালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ”অগ্রমহাসদ্ধর্মজ্যোতিকধ্বজা” উপাধি প্রদান করেন। তিনি ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতি মনোনীত হন। সমাজ সেবায় অবদান রাখার জন্য ২০১৫ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক একুশে পদকপ্রাপ্ত হন। একই বছর ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার মাননীয় উপসংঘরাজ পদে মনোনীত হন।
তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জীবনে বহুবার বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং বাংলাদেশের হয়ে নেতৃত্ব দান করেছেন। আজীবন শীল-বিনয়কে আঁকড়ে ধরে জীবন যাপন করা পণ্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হতো ৯৬ বছর।






