দর্পণ বড়ুয়া:
কক্সবাজারের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার ব্রেষ্ট ফিডিং কাউন্সেলিং বিষয়ক ৩ দিনের কর্মশালা উদ্বোধন করেন রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আবদুল মন্নান।
তিনি বলেন, শিশুদের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের বুকের দুধের কোন তুলনা নেই। চরম দারিদ্র অথবা চরম ঐশ্বর্য যে অবস্থাতে পালিত হোক না কেন মায়ের দুধ খেলে শিশু সুস্বাস্থের অধিকারী হয় ও বিভিন্ন রকম অসুখের হাত থেকে রক্ষা পায়।
তিনি আরো বলেন, ৬ মাস বয়স পুরো হওয়া পর্যন্ত শিশুর পুষ্টির জন্য যা প্রয়োজন তার সবই বুকের দুধে আছে। শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ালে তাকে জন্মগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা করা হয়।
এতে রিসোর্স পার্সন ছিলেন ডা. চিন্ময় বড়ুয়া, ডা. শামীম রাসেল, ডা. মোহাম্মদ শাহেদ ইকবাল হাসান। সঞ্চালক ছিলেন অফিস সহকারী দীপংকর বড়ুয়া ধীমান। কোরান তেলওয়াত করেন কর্ম সহায়ক মনির আহমদ।
কর্মশালায় জানানো হয় মায়ের দুধ শিশুর জীবনধারণ, পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য একটি উৎকৃষ্ট সুষম খাদ্য। জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব (আধা ঘন্টার মধ্যেই শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। পূর্ণ ৬ মাস (১৮০ দিন) পর্যন্ত শিশুকে শুধু মাত্র (১ ফোঁটা পানিও না) মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। এরপর পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি ২ বছর পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে। মায়ের দুধের উপকারিতা হল (১) মায়ের দুধে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান সঠিক মাত্রায় থাকে।
৫ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট । মায়ের দুধে পুষ্টি উপাদান ছাড়াও আছে শতকরা ৯০ ভাগ পানি। সেইজন্য শিশুকে ৫ মাস বয়স পর্যন্ত আলাদা পানি দেবার প্রয়োজন নেই। (২) মায়ের বুকের দুধ পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত। বায়ু বা পানি বাহিত জীবানু দ্বারা সংক্রমিত হবার সুযোগ নেই।
উপরন্ত মায়ের দুধে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মায়-যার ফলে শিশুর অসুখ বিসুখ বিশেষ করে ডায়রিয়া, কানপাকা, নিউমোনিয়া, শ্বাসনালীর রোগ, হাঁপানী,এলার্জি, চুলকানি ইত্যাদি কম হয় (৩) মায়ের দুধে শিশুর বুদ্ধি বাড়ে। তাছাড়া স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে (৪) অসুখ হলেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকার কারণে শিশু তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে যায় (৫) মায়ের দুধ শিশু মৃত্যুর হার কমায় (৬) মায়ের দুধ সহজে হজম হয় (৭) মায়ের দুধে পূর্ণমাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ থাকে বলে শিশুর রাতকানা হবার সম্ভাবনা থাকে না (৮) এছাড়া পরবর্তীতে শিশুর ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি ভয়াবহ রোগ হবার সম্ভবনা কমে যায়।
কর্মশালায় বোতলের দুধ খাওয়ানোর অপকারীতা বিষয়ে শিশুকে মাকে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। উক্ত কর্মশালায় স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী ও সি এইচসিপিগন উপস্থিত ছিলেন।







