অনলাইন ডেস্কঃ
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের ‘বিশাল অর্জন’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ফাউন্ডেশন আয়েজিত ‘বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এইচ টি ইমাম বলেন, “এই যে আমরা এত বিশাল একটি অর্জন করে ফেললাম রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে, সারা পৃথিবী আজকে বাংলাদেশের সম্পর্কে প্রশংসা করে। শুধু প্রশংসা করে না, তারা পাশাপাশি মিয়ানমারের নিন্দাও করে। আমরা শুধু প্রশংসা পেলাম, তাই নয়। বাঙালি যে সত্যিকারের সাহসী বীর এবং ত্যাগ স্বীকার করতে পারে… আমরা ত্যাগী।
“আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং তার ছোট বোন রেহানা যে কথাটি বলেছেন যে, আমরা যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি তাহলে আর ১০ লক্ষ মানুষকে কেন পারব না এবং শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যে বক্তব্য দিলেন শুনে গর্বে আমার বুক ভরে গেল।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এইচ টি ইমাম বলেন, “বঙ্গবন্ধু ছিলেন আমার রাজনৈতিক গুরু। উনার কাছে থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকেও আমি গুরু মানি।
“গতকাল আমি সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছি। সিঙ্গাপুর পলি মাটি কিনতে আগ্রহী। ইতিমধ্যে দুয়েকজন জাহাজে করে পাঠাচ্ছেন। তাহলে নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে যে মাটি পাওয়া যাবে সে মাটি রপ্তানি করে যদি আমরা ফরেন এক্সচেঞ্জ আনতে পারি তবে বিশাল সম্ভাবনা। এই ধরনের চিন্তা ভাবনা জননেত্রী শেখ হাসিনার। উনার কাছ থেকে শিখেছি।”
সবাই মিলে আধুনিক ও সোনার বাংলা গড়ে তোলার কঠিন পথ পাড়ি দিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ৫৭৪ জন মেধাবীকে সম্মাননা ও সনদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি বিভাগের শীর্ষ আটজন শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঘাতক দালাল নিমূর্ল কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুজহাত চৌধুরী বলেন, “ইদানিং মেধাবীদের সংজ্ঞা নিয়ে বিচলিত হই। শুধু বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমলা, মন্ত্রী হব সেটাই কি আমাদের চাওয়া?
“বড় হয়ে এত সফল হব যে আমাদের একটা পাজেরো গাড়ি থাকবে, সেটাই কি জীবনের সফলতা? তোমরা হবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মত। তারা মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বিচলিত হননি। মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছেন, কিন্তু পাকিস্তানের দালালি করেন নাই।”
নুজহাত চৌধুরী বলেন, “আমি সেরকম মেধাবী দেখতে চাই। একটি চাকরির জন্য ‘আমি রাজাকারের বাচ্চা’ বলবে নিজেকে, তেমন মেধাবী দেখতে চাই না।
“আমি চাই তোমরা বঙ্গবন্ধুর মত হবে। তুমি এবারের সংগ্রাম বলে ডাক দিবে, আমরা আবার যুদ্ধে যাব। আমরা জামায়াত-শিবির নিশ্চিহ্ন করব। তুমি সেরকম মেধাবী হবে। দেশকে ভালোবাসবে, দুর্নীতি করবে না। মন্ত্রী-আমলা হওয়া লাগবে না। তোমরা বঙ্গবন্ধু হও। তোমার পেছনে সারাদেশ থাকবে।”
মুহাম্মদ সাজ্জাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সীমান্ত তালুকদার ও সংগঠনের উপদেষ্টা মো. ইমরান।
সূত্রঃ বিডিনিউজ






