অনলাইন ডেস্কঃ
টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব্ নেওয়া শেখ হাসিনা এবারের পর আর সরকার প্রধান না হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে সরকার গঠনের পর জার্মান সম্প্রচার মাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন তিনি।
ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোলের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “এটা টানা তৃতীয় মেয়াদ এবং এর আগে ১৯৯৬-২০১৯ সাল মেয়াদে আমি প্রধানমন্ত্রী। তাই এটা আমার চতুর্থ মেয়াদ।
“আমি আর এই দায়িত্ব চাই না। আমি মনে করি, প্রত্যেকের একটা বিরতি নেওয়া উচিত, যাতে আমরা তরুণদের জায়গা করে দিতে পারি।”
সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা তার প্রথম অগ্রাধিকার। এর পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ মৌলিক চাহিদা পূরণেই সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হবে।
“প্রত্যেকেই একটু ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চায়। আমাদের সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”
বাক স্বাধীনতা নিয়ে অভিযোগ নাকচ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার নাগরিকের বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং জনগণ সেই স্বাধীনতা ভোগ করছে। সমালোচনা যেটা সেটা সমালোচনার জন্য সমালোচনা।
“আপনি যত বেশি কাজ করবেন আপনার তত বেশি সমালোচনা শুনতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নকর্তাকে আরও বলেন, “আপনি জনগণকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন তারা সন্তুষ্ট কি না? তারা কী চিন্তা করছে। তাদের যা যা প্রয়োজন তারা সেসব পাচ্ছে কি না? আমি তাদের সেগুলো দিতে পারছি কি না?”
আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাচ্ছে বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে।
অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, “এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ২৬০ আসনে বিজয়ী হয়েছে। অন্যান্য দলও সংসদে আছে। এটা কীভাবে একদলীয় শাসন হল?”
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভাবনীয় জয়ের বিপরীতে বিরোধীদের ভরাডুবি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “কোনো দল যদি মানুষের কাছে যেতে না পারে, তাদের আস্থা অর্জন করতে না পারে এবং ভোট না পায়, তাহলে এর দায় কার? এটা আসলে তাদের দুর্বলতার কারণে হয়েছে।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হেফাজতের মতো ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ‘সখ্যের’ বিষয়টিও উঠে এসেছে দীর্ঘ এ সাক্ষাৎকারে৷
সূত্রঃ বিডিনিউজ





