২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বুধবার
আমাদের রামু
ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
আমাদের রামু
ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন

জান্তার কাজে ‘লজ্জিত’ হয়ে বিক্ষোভে সেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৬, ২০২১
বিভাগ আন্তর্জাতিক
0
জান্তার কাজে ‘লজ্জিত’ হয়ে বিক্ষোভে সেনা
Share on FacebookShare on Twitter

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর জান্তা সরকারের দমন–পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই রাজপথে ঝরছে রক্ত। নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর এই নৃশংসতা চালানোর জন্য সেনাবাহিনী থেকে পক্ষত্যাগ করে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন এক সেনাসদস্য।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ওই সেনাসদস্যের নাম শিং লিং। ৩০ বছর বয়সী ওই সেনাসদস্য গত সপ্তাহে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা শিং লিংকে তিন আঙুলের স্যালুট দিতে দেখা যাচ্ছে। ওই স্যালুট মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীদের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ওই ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। তাঁর ওই সাহসী কাজের প্রশংসা করে হাজারো ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন। ছবিটি শেয়ার হয়েছে এক হাজারের বেশিবার।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক নেতা অং সান সু চিকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর দাবি, গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে বিজয়ী হয় সু চির দল এনএলডি।
যদিও বিভিন্ন সংগঠন বলছে, সেনাবাহিনীর ওই দাবির গ্রহণযোগ্যতা নেই। ক্ষমতা দখলের পর জরুরি অবস্থা জারি করে জান্তা সরকার। কিন্তু সেটা অমান্য করেই রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন হাজারো বিক্ষোভকারী। অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন ছিল রোববার। এদিন দেশটির প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের উপকণ্ঠ হ্লাইংথায়ায় অন্তত ৩৭ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান। এ নিয়ে মোট ১৮০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

ইয়াঙ্গুনে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় শিং লিং এএফপিকে বলেন, ‘১ ফেব্রুয়ারির পর থেকে নিজেকে খুব অপরাধী ও লজ্জিত মনে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, সু চিকে গ্রেপ্তারে ‘মর্মাহত’ হলেও মার্চের প্রথম দিকে ইয়াঙ্গুনের ওকালাপা পৌর এলাকায় বিক্ষোভ দমনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা তাঁকে গণ–অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিতে উৎসাহিত করে।

শিং লিং বলেন, ‘আমি নর্থ ওকালাপায় আন্দোলনকারীদের খুব কাছে দায়িত্বে ছিলাম। আমার বন্দুকের গুলিতে নিরস্ত্র মানুষের প্রাণ যেত পারত। কিন্তু আমি সেটা করতে দিইনি। সে জন্য আমি বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

মিয়ানমারের একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী পরিবার থেকে উঠে আসা শিং লিংয়ের। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য চিনে এতিম অবস্থায় তাঁর বেড়ে ওঠা। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রতিনিয়ত সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছবি পোস্ট করতেন তিনি। তাঁর পরিচিতি ততটা ছিল না। কিন্তু সেনাবাহিনী থেকে পক্ষত্যাগ করার পর তিনি মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

তবে এটা ঠিক, মিয়ানমারে পুলিশ ও সেনাসদস্যদের প্রকাশ্যে পক্ষত্যাগের ঘোষণা বিরল। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিপীড়নের ভয়ে তাঁরা এটা করেন না। দেশটিতে সেনাবাহিনীর আদেশ অমান্যের জন্য মার্শাল লর অধীনে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এরপরও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকের জান্তা সরকারের পক্ষ ত্যাগ করার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যমতে, অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব ছেড়ে মিয়ানমারের প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবার পালিয়ে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন।

সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়ে শিং লিং বলেন, ‘কিশোরকালে সেনাবাহিনীকে একটি পরিবারের মতো মনে করতাম। সে কারণে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া। আমরা ভাইয়ের মতো ছিলাম। একে অন্যের মধ্যে ছিল বেশ উষ্ণ সম্পর্ক। আমার কাছে সেটা (সেনাবাহিনী) পরিবারের মতো মনে হতো। কিন্তু ২০১১ সালে সাবেক জান্তা সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর সেনাবাহিনীর প্রতি মোহ আস্তে আস্তে কাটতে শুরু করে। ওই সময় ইন্টারনেটের বিপ্লব ও বিশ্বের কাছে মিয়ানমারকে উন্মুক্ত করা হয়। তখন ফেসবুকে রাজনীতির বিষয়ে জানাবোঝা বাড়তে থাকে।’
মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে রাস্তায় নেমেছেন সেনাসদস্যরা। ছবিটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তোলা

২০১৫ সালের নির্বাচনে সু চির দল এনএলডিকে ভোট দেন বলে জানান শিং লিং। দলটি আশানুরূপ কাজ না করায় তাদের ওপর থেকে সমর্থন উঠে যায়। লিং বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে থাকা আমার বাকি বন্ধুরা ভোট (এনএলডিকে) দিতে সাহস পাননি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সু চিকে ভোট দেওয়া পছন্দ করেন না। ফলে তাঁরা ভোট দিতে ভয় পান।’

সূত্রঃ প্রথম আলো

শেয়ার করুন

  • Tweet
পূর্ববর্তী সংবাদ

মওদুদ আহমেদ আর নেই

পরবর্তী সংবাদ

রামুতে শুক্রবার মাঠে গড়াচ্ছে শেখ রাসেল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট, অংশ নিচ্ছে জেলার ১৬টি দল

পরবর্তী সংবাদ
রামুতে শুক্রবার মাঠে গড়াচ্ছে শেখ রাসেল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট, অংশ নিচ্ছে জেলার ১৬টি দল

রামুতে শুক্রবার মাঠে গড়াচ্ছে শেখ রাসেল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট, অংশ নিচ্ছে জেলার ১৬টি দল

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠিত

রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠিত

জুন ২৩, ২০২৬
জ্ঞান ভিত্তিক চর্চার মাধ্যমে রামু পাবলিক লাইব্রেরীকে সমৃদ্ধ করা হবে: ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান

জ্ঞান ভিত্তিক চর্চার মাধ্যমে রামু পাবলিক লাইব্রেরীকে সমৃদ্ধ করা হবে: ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান

জুন ২৩, ২০২৬
লামায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

লামায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

জুন ২০, ২০২৬
কবি-সাহিত্যিকদের আধুনিকতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি: কক্সবাজারে আব্দুল হাই সিকদার

কবি-সাহিত্যিকদের আধুনিকতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি: কক্সবাজারে আব্দুল হাই সিকদার

জুন ২০, ২০২৬
রামুতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত : রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ বিতার্কিক দল চ্যাম্পিয়ন

রামুতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত : রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ বিতার্কিক দল চ্যাম্পিয়ন

জুন ১৮, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

Loading...
«জুন ২০২৬»
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
« মেজুলাই »

© ২০২২ আমাদের রামু ডট কম কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

[email protected]

আমরা রাষ্ট্র তথা এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরি। আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ নই কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে আমরা আপসহীন থাকার চেষ্ঠা করি। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যে, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের অপর তিন স্তম্ভ- সংসদ, প্রশাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পর চতুর্থ স্তম্ভ। একটি কার্যকর রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনায় দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • প্রাইভেসি পলিসি
  • ইউনিকোড কনর্ভারটার

প্রযুক্তি সহায়তায় ❤ ডেবস্ওয়্যার

ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন

© 2026 JNews - Premium WordPress news & magazine theme by Jegtheme.