রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনের দোতলায় দাঁড়িয়ে যত দূর দেখা যায় শুধুই মানুষ আর মানুষ। পাশেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসের র্যাম্প নেমেছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে, সেখানে তাকিয়েও দেখা গেল একই চিত্র। সংসদের সামনের ওই চত্বরেই শেষ বিদায় জানানো হবে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে, যার অংশ হতে এসেছেন তারা।
বেশি দূরে আর এগোতে না পেরে সেখানেই দাঁড়িয়ে গেছেন অনেকে। তাদেরই একজন মোহাম্মদ শাকিল। এসেছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রথমে শুনেছেন কিছুটা দেরিতেই, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে। প্রথমে গুজব মনে করলেও পরে তা যাচাই করে নেন। এরপর মন মরা হয়েই কাটে সারাদিন। শেষে সন্ধ্যায় বাসে চেপে রাতেই ঢাকায় চলে আসেন শাকিল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “রাতে আত্মীয়ের বাসায় ছিলাম। ভোরে যাই হাসপাতালের সামনে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স বাইর হইলে লগে লগে চলে এলাম ফার্মগেটে।”
কোনোদিন রাজনীতি না করা ৫০ বছর বয়সী এ ব্যক্তি বলেন, “খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম আছে। দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি তিনি। এটাই আমার কাছে শ্রদ্ধার জন্ম দিছে। তাই তার জানাজায় আসলাম, না আসলে জীবনভর কষ্ট পাইতাম। তার মত নেতা লাগবে আমাদের।”
শাকিলের মত জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীবাসীর মত এসেছেন মানিকগঞ্জের রিফাত উদ্দিনও। সকালের বাসে ঢাকায় নেমে বেলা ১১টার দিকেই পৌঁছে যান মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। সেই থেকে অপেক্ষায়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমার মা খালেদা জিয়ার ভক্ত। মা পাঠাইছে জানাজায়।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অধ্যায়কে শেষ বিদায় জানাতে আসার পথে ফেইসবুকে একজন লিখেছেন, “ইতিহাসের ডাকে সাড়া দিয়ে, শেষ সালামের পথে সিলেট থেকে ঢাকা! নীরব বিদায়, অশ্রুসিক্ত জাতির শেষ সালাম।”
শাকিল-রিফাতদের মত দলীয় পরিচয় ছাড়া, কেউবা মায়ের কথায়, কেউবা স্বেচ্ছায় এক সারিতে এসে মিশলেন নির্বিশেষে।
ফার্মগেটে মেট্রোস্টেশনের র্যাম্পের ওপর বা নিচ কিংবা মানিক মিয়া অ্যাভেনিউ কোথাও যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সবার উদ্দেশ্য এক- এসেছেন বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের চিরচেনা মুখ আপোসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়ার চিরবিদায়ের সাক্ষী হওয়া।
তাদের সেই অপেক্ষা ফুরালো বেলা ৩টায়, জনসমুদ্রের মধ্যে জানাজা শুরু হল। কাতারবন্দি হয়ে তাতে শরিক হলেন তারা। জানাজা শেষে কফিন নিয়ে যাওয়া হল জিয়া উদ্যানে, যেখানে ৪৪ বছর আগে তার স্বামী জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করা হয়েছিল। সেখানেই শেষ ঠিকানা হল তার।
ঘণ্টা দেড়েক পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় বড় ছেলে তারেক রহমান কবরে নেমে মাকে সমাহিত করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। সমাপ্তি ঘটল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের। জনসমুদ্রের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর চোখের জলে চির বিদায় নিলেন খালেদা জিয়া।
জানাজার সরাসরি সম্প্রচারকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আলোচনা অনুষ্ঠানে এসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোজ্জামেল হোসেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানালাম, জাতি-জনগণ শেষ বিদায় জানালো। তবে যিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তিনি তো আলোচনায় থাকবেন।
“খালেদা জিয়া বিএনপিকে গড়ে তুলেছেন; আমি বলছি, বিএনপিকে বড় রাজনৈতিক দল করেছেন।”
মায়ের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া চাইলেন তারেক
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অগুণিত মানুষ যেমন এসেছেন, তেমনি তাদের আসা-যাওয়া আর জানাজা-দাফন ঘিরে প্রস্তুতিতে কোনো কার্পণ্য রাখেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার মৃত্যুর পর নেতাকর্মীদের চাপে গৃহবধু থেকে দলের হাল ধরা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরপরই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার সঙ্গে তার জানাজা ঘিরে সাধারণ ছুটিও রাখা হয়েছিল এদিন।
এ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেই ১৯৮১ সালে জানাজা হয়েছিল প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের।
বুধবার সকাল থেকে যান নিয়ন্ত্রণসহ নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের চারপাশ; যার ইতি ঘটে বিকাল সাড়ে ৪টায় চন্দ্রিমা উদ্যানে (যার বর্তমান নাম জিয়া উদ্যান) বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের মাধ্যমে।
তবে দাফনের পরেও চলে আনুষ্ঠানিকতা; সমাধিতে প্রধান উপদেষ্টা, তিন বাহিনী ও বিএনপির তরফে দেওয়া হয় ফুলেল শ্রদ্ধা।
এর আগে ৩টা ২ মিনিটে জাতীয় সংসদের সামনে জনসমুদ্রের মধ্যে তার জানাজা সম্পন্ন হয়; সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আপসহীন সংগ্রামের বর্ণনা পড়ে তার পথে হাঁটবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
জানাজার আগে রীতি মেনে পরিবারের তরফে কথা বলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। যুক্তরাজ্যে দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মধ্যে মাকে হারান তিনি।
মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় (খালেদা জিয়া) যদি আপনাদের কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।
“একই সাথে উনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় উনার কোনো ব্যবহারে, উনার কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন।”

জানাজায় জনসমুদ্র
ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ৪০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
তার মৃত্যুতে দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে, বুধবার ঘোষণা করা হয় সাধারণ ছুটি।
এদিন তার দাফনের আগে বাংলাদেশের পতাকার রঙে সাজানো গাড়িতে করে কফিন প্রথমে সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে নেওয়া হয়। এসময় গাড়ির পেছনে একটি বাসে ছিলেন তারেক রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যরা।
এরপর বেলা ১১টার দিকে গুলশানের ওই বাড়ি থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে রওনা হয় কফিনবাহী গাড়ি। বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছায়।
জানাজা শুরুর আগে ২টার দিকে খালেদা জিয়ার ইংরেজিতে জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানাজা স্থলে আসেন ২টা ১৯ মিনিটে। এরপর কফিনবাহী গাড়িটি জানাজা স্থলে নিয়ে আসা হয় ২টা ২৫ মিনিটে। সেখানে তারেক রহমান পৌঁছান ২টা ৪১ মিনিটে।
তারেক রহমান পৌঁছে প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কোলাকুলি করেন। তার চার মিনিটের মাথায় ২টা ৪৫ মিনিটে পতাকায় আচ্ছাদিত কফিন জানাযার জন্য সম্মুখে এসে নামানো হয়।
খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়িটি জানাস্থলে নিয়ে আসা হয় ২টা ২৫ মিনিটে আর তারেক রহমান পৌঁছান ২টা ৪১ মিনিটে।
পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ২টা ৫৮ মিনিটে মঞ্চে দাঁড়েয়ে এক মিনিটের মত বক্তব্য রাখেন। ৩টা ২ মিনিটে জানাজা শুরু হয়। এতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আবদুল মালেক। ৪টা ২৮ মিনিটে তার কফিন নামানো হয় এবং পরবর্তীতে দাফন সম্পন্ন হয়।
জানাজায় ছিলেন যারা
স্বামীর মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরা খালেদা জিয়া নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হয়ে ওঠেন ‘আপসহীন নেত্রী’। স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ হঠানোর আন্দোলনে সফলতার পর তার সুসংগঠিত নেতৃত্বেই ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। খালেদা জিয়া হন বাংলাদেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর তিনি। ছিলেন পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী; আর বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার।
তবে তার চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের বড় সময় কেটেছে রাজপথের আন্দোলনে। সেই রাজপথেই অবিস্মরণীয় চিরবিদায় নিলেন তিনি।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেই তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে তিনবার। তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, জেল খেটেছেন; তবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে কখনো তিনি হারেননি।
আওয়ামী লীগের সবশেষ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। দুর্নীতির মামলায় কারাবরণ করে নির্যাতিত নেত্রীর তকমাও পেয়েছেন। গণআন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয়।
এমতাবস্থায় তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে সারা দেশ থেকে অজস্র মানুষের ঢল নামবে তা ছিল অনুমেয়।
তার জানাজার জন্য প্রস্তুত করা হয় জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভেনিউ। জানাজায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক নারীদের জন্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থা।
সব ছাপিয়ে তার জানাজায় অংশ নিতে কারওয়ান বাজার, ধানমণ্ডির সোবহানবাগ ও বিজয় সরণী অংশে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাম পাশে দাঁড়ান তারেক রহমান, তারপরে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং তারপরে দাঁড়ান নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার।
আর সরকারপ্রধানের ডান পাশে দাঁড়ান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, তারপরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং তারপরে ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি তার সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান, ফাওজুল কবির খান, আ ফ ম খালিদ হোসেন, আলী ইমাম মজুমদার, সি আর আবরার, এম সাখাওয়াত হোসেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকেও জানাজায় দেখা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির সর্বস্তরের নেতারকর্মীরা জানাজায় শরিক হোন। জানাজায় দেখা গেছে চিন্তক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে।
অন্য রাজনীতিকদের মধ্যে জামায়াত ইসলামীর শামীম সাঈদী, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে দেখা গেছে। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আহমাদুল্লাহ ও বিএনপি নেত্রীরা জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব আবদুল মালেক। সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা
নজরুল ইসলাম খান জানাজার আগে খালেদার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই এবং স্বৈরাচারী এরশাদ ও শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তার উপর নির্যাতন-নিবর্তনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন।
দলীয় নেত্রীকে বিদায় জানিয়ে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলতেন, ‘দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, বাংলাদেশ হলো আমার ঠিকানা; এই দেশ এই দেশের মাটি ও মানুষ আমার সবকিছু।’ চিরচেনা এই দেশের মাটিতেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন, আজ এই দেশের মাটিতেই তার শহীদ স্বামীর পাশে তিনি শায়িত হবেন চিরদিনের জন্য।”
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুঙ্গেল, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির উচ্চ শিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ।
চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ঢাকায় বিভিন্ন মিশনের প্রধানরাও তাদের দেশের পক্ষে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ে শেষ যাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
‘অনন্যসাধারণ’ খালেদা
নিতান্তই একজন গৃহবধূ থেকে খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালের অগাস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়ে বিএনপির হাল ধরেন, আমৃত্যু তিনি সে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করলে সেই আন্দোলনের পুরো যাত্রায় সরকারের সঙ্গে আপোস করার তথ্য মিলেনি।
অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতা করলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সমঝোতায় না যাওয়াও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার নাম হয় আপসহীন নেত্রী।
তবে এর বাইরেও তার নেতৃত্বের ভঙ্গির জন্য ‘অনন্যসাধারণ’হয়ে উঠছিলেন তিনি বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন।
খালেদা জিয়ার সমাহিত করার পথের যাত্রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
সেখানে মুসলিম প্রধান দেশে ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির জোট গঠন এবং জোটের চেয়ারম্যান পদে খালেদা জিয়ার আসীন হওয়াকে ‘অনন্যসাধারণ’ ঘটনা বলে দাবি করে তিনি বলেছেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং দুর্নীতি কমানোর জন্য তাদের তহবিলের ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ হওয়া উচিত।”
খালেদা জিয়ার ‘নেতৃত্বের ভঙ্গি’, ‘কম সংঘাতপূর্ণ কিন্তু বেশি অংশগ্রহণমূলক’ ব্যক্তিগত আচার আচরণ এবং আপসীনভাবে সেনাশাসকের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম দীর্ঘদিন মানুষের মধ্যে ইতিবাচকভাবে বেঁচে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে তার বিয়োগের পর বিএনপির মতো বড় দলগুলোতে গণতন্ত্রায়ণ এবং গণতন্ত্রের চর্চাটা সঠিকভাবে ও সৎভাবে করতে হবে বলে মনে করছেন এ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তাহলেই কেবল আগামী দিনে সংসদীয় ‘গণতন্ত্রকে স্থীতিশীল’ করা সম্ভব বলে তার ভাষ্য।
বিডিনিউজ







