যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমি। একই সাথে একাডেমির নিয়মিত ৫৪৭ তম পাক্ষিক সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একাডেমির সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক, কবি, গল্পকার ও কথাসাহিত্যিক সোহেল ইকবালের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, লোকজ গবেষক, বহু গ্রন্থের প্রণেতা, সাংবাদিক মুহম্মদ নুরুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, যে কোনো জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন।
এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার—তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। তখন পুলিশের গুলি থামাতে চেষ্টা করলে গুলিতে রাজপথে লুটিয়ে পড়ে রফিক, শফিক, জব্বার, সালামসহ আরো অনেকেই। ভাষার জন্য ঢাকার রাজপথ রক্তাক্ত হয়।
ইতিহাসবিদ নুরুল ইসলাম বলেন, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মেয়েদের প্রথম যে মিছিল বের হয়েছিলো তাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং-এর মাহফিল আরা ছিলেন, ছেলের মিছিলে ছিলেন চকরিয়া কলজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ডুলাহাজারার সন্তান সাহাবুদ্দিন চৌধুরী।
সর্বোপরী বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে আন্দোলন করে জেলার তৎকালিন বৃহত্তর ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাছুয়াখালী এলাকার মৌলভী ফরিদ আহমদ সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন একাডেমির সহ সভাপতি, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, ছড়াকার মো. নাছির উদ্দিন।







