নিজস্ব প্রতিবেদক:
বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় ২২ ডিসেম্বর থেকে বৃক্ষ ও বনজ সম্পদ জরিপ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত অবহিতকরণ সভায় এ কথা জানানো হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হারুনুর রশিদ। সভায় জরিপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বৃক্ষ ও বন জরিপ-২০১৬ প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ বখতিয়ার নুর সিদ্দিকী ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বনবিষয়ক কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তার। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল হোসাইন, পাল্পউড বিভাগের কর্মকর্তা বিপুল কৃষ্ণ দাশ, উপজেলা পরিষদের কয়েকজন চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৌজাপ্রধান।
এফএও কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ, নিরাপত্তা বাহিনী, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, হেডম্যান-কার্বারিসহ সবার সহযোগিতা না হলে জরিপকাজ চালানো সম্ভব হবে না। আবার এ জরিপ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরূপ ধারণারও সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য কাজ শুরুর আগে সবাইকে বিষয়টি জানানো হচ্ছে।
বান্দরবানের পাল্পউড বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) বিপুল কৃষ্ণ দাশ জানান, ইউএসএআইডির অর্থায়নে এফএও বৃক্ষ ও বন জরিপের কাজ করছে। দুই বছরের এ কাজে বন বিভাগ সহযোগিতা করবে। জরিপের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বৃক্ষপ্রজাতি ও বনজ সম্পদের বর্তমান অবস্থা এবং পরিবর্তনপ্রবণতা সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা। এতে বনাঞ্চল সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণ সহজ হবে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন তৈরিতেও তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা যাবে।
অবহিতকরণ সভায় জানানো হয়, জরিপে বান্দরবানে ১১৩টি, রাঙামাটিতে ১৩৩টি ও খাগড়াছড়ির ৭৬টি নমুনা সংগ্রহের স্থান থেকে পার্বত্য অঞ্চলের বৃক্ষপ্রজাতি, লতাগুল্মের প্রজাতি এবং বনজ সম্পদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে মাটির প্রকারভেদ, লবণাক্ততা ও পানি ধারণক্ষমতা-সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্তও নেওয়া হবে।
সভায় জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে ১৯৫৯ সালের পর এটি হবে দ্বিতীয় জরিপ।






