এম.এ আজিজ রাসেল:
মিয়ানমারের আরকান প্রদেশের বিভিন্ন গ্রামে মুসলিম রোহিঙ্গার উপর সেদেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশের অত্যাচার নির্যাতন চলছে বিগত দুই মাস ধরে।এসময় সীমান্ত পেরিয়ে বিপুল সংখ্যাক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটে বাংলাদেশে। তাই বিজিবিসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা স্বভাবতই সীমান্তে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এসময়ের মধ্যে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় টেকনাফ ও উখিয়ায় ইয়াবা পাচার বেড়েছে ব্যাপক আকারে।এখানকার গডফাদাররা সর্বদা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে তাদের পাচার বানিজ্য ও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। গত নভেম্বর মাসে সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অস্থিরতার সাথেও টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ২০ লাখ পিচের মত ইয়াবা জব্দ করেছে।যা অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি।
এগুলো পাচারের সাথে জড়িত অন্তত অর্ধশতাধিক পাচারকারিকে আটক করেছে বিজিবি ও পুলিশ বাহিনী।জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের মূল্য প্রায় ৬০ কোটির টাকা মত।ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহৃত নোয়া মাইক্রোবাস নামী দামি ব্রান্ডের প্রাইভেট কার,সিএনজি অটোরিক্সা,টমটম মোটর সাইকেল সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও জব্দ তালিকায় রয়েছে।পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইয়াবা আটকে বরাবরের মত নভেম্বর মাসেও টেকনাফ-২ বিজিবি সর্বোচ্চ ১৮ লক্ষ৩৮ হাজার ২৩৯ পিচ ইয়াবা জব্দ করেছে।একই সময় আটক করেছে ২৮জন পাচারকারিকে।
এরপর বিছিন্ন ভাবে কক্সবাজার-৩৪ বিজিবি ও উখিয়া থানা পুলিশ সীমান্ত এলাকা সহ উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জন পাচারকারী সহ দেড় লক্ষাধিক ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে। মাদক দ্রব্য নিরোধক আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী বিদেশী আমদানি নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য যার হেফাজতে পাওয়া যাবে উদ্ধার ও জব্দকৃত পণ্যের পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত হবে।সে অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন ইয়াবা সহ আটকদের অধিকাংশ ইয়াবা বহনকারী বা অমুক রাতারাতি এত বাড়ি,অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছে সেও চেষ্টা করে দেখছে পারে কিনা।এ খায়েশে অনেকে ধরা পড়ছে।
তবে গত মাসে সব চেয়ে আলোচিত ইয়াবা আটকের ঘটনার জন্ম দিয়েছে উখিয়া থানা পুলিশ। গত ৩০ নভেম্বর বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কায় কিসলুর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার কুতুপালং বুড়ি ঘর সড়কে অভিযান চালিয়ে একটি টিপটপ নতুন মডেলের প্রাইভেট কারের তল্লাশি চালিয়ে ২৪শ ১৫ পিচ ইয়াবা সহ ৪জনকে আটক করে। কারটি টেকনাফের হোয়াইক্যং থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি প্রভাবশালী নাজির হোসেন প্রকাশ নাজু চৌধুরীর তার দ্বিতীয় স্ত্রী খাইরুনেচ্ছা প্রকাশ আনোয়ারা বেগম, তাদের নাতিন সম্পর্কীয় কলেজ ছাত্রী সাদিয়া ইসলাম ও তার প্রেমিকা কক্সবাজারের কলাতলীর বাসিন্দা কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আনসারুল করিম দীর্ঘদিন ধরে ভদ্রবেশী হয়ে ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে ইয়াবা পাচার করে আসছিল বলে পুলিশ জানায়।
জব্দকৃত গাড়িটি ঐ ছাত্রলীগ নেতা এবং এটিও ইয়াবার টাকা কেনা বলে জানা গেছে। মূলত এরা ছাড়া আলোচিত আর কেউ ধরা পড়ছে না। তবে ইয়াবা পাচারের গডফাদাররা বরাবরই ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যাওয়ায় সাধারন অভিভাবক ও সচেতন লোকজন উদ্বিগ্ন। কারণ সকলের জানা কারা কীভাবে গাড়ি বাড়ি অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে। টেকনাফ ও উখিয়ায় কয়েকশত ইয়াবা পাচারকারী চিহ্নিত ও বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত হলেও তাদের প্রায় সকলে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে অদৃশ্য কারনে।চিন্থিত ইয়াবা গড়ফাদারদের সাথে থানা পুলিশের কিছু কিছু কর্মকর্তার সখ্যতারও অভিযোগ উঠেছে।
উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের আমাদের রামু কে বলেন, অনেকের সম্পর্কে অনেক কিছু শুনি ও জানতে পারি। কিন্তু এসব পাচারকারীদের মালামাল হাতেনাতে না পেলে কিছু করার থাকে না।
টেকনাফ-২ বিজিবি উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দীকি আমাদের রামু কে বলেন, সীমান্তের অস্থিরতার সুযোগকে পাচারকারীরা কাজে লাগিয়ে ইয়াবা পাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া মিয়ানমারের রাখাইন লোকজন ও বিজিপি এসবের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় এধরনের অবস্থায় তাদের অবৈধ ব্যবসার প্রসারতা ঘটে থাকে বলে তিনি জানান।







