এম.এ আজিজ রাসেল:
কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পেছনে অবৈধভাবে আবাসিক হোটেল নির্মাণ কাজ শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) থেকে ফের শুরু করা হয়েছে।
দেশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী টেকনাফের সাইফুল করিম ও জসিম উদ্দিন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা অর্থায়নে গড়ে উঠা এ আবাসিক হোটেলটির নির্মাণ কাজ ১৫ ডিসেম্বর বন্ধ করে দিয়েছিল কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর।
ডিভাইন নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাওন পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে দাবী করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘হোটেলটি নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেয়া হয়নি। নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার পর আইন অমান্য করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৫ ডিসেম্বর শনিবার সরজমিন দেখা গেছে, কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পিছনে ডিভাইন ইকো রিসোর্টের পাশে ভবনের নির্মান কাজ চলছে। ১৫/২০ জন শ্রমিক দ্রুতগতিতে ভবনটির নীচ ও দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। কাজ তদারকি করছেন কেয়ারটেকার উসমান ও কর্মচারী জাহেদ।
তারা বলেন, ‘হোটেলটির মালিক কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম এবং টেকনাফের সাইফুল করিম। তারা দু’জনই মাঝে-মধ্যে এসে কাজ দেখাশুনা করেন। তবে বর্তমানে সার্বক্ষনিক কাজ দেখভাল করছেন ডিভাইন ডেভেলপার কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাওন।’
হোটেলের মালিক ওসি জসিম এবং সাইফুল করিমের মোবাইল নম্বর চাইলে জাহেদ বলেন, ‘তাদের নম্বর আমার কাছে নেই। তবে শাওনের নাম্বার রয়েছে। শাওনই শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য বিষয়ে লেনদেন করেন।’
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হোটেলটিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি থানার ওসি জসিম উদ্দিন এবং দেশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী টেকনাফের সাইফুল করিমকে মাঝে-মধ্যে আসতে দেখা যায়। তাঁদের সেখানে শ্রমিকদের বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে দিতেও দেখা গেছে।
এই অবৈধ ভবনের পাশে অবৈধভাবে ডিভাইন ইকো রিসোর্ট ও রেষ্টুরেন্ট গড়ে তোলা হয়েছে। ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা একাধিবার উচ্ছেদ করেছিল। উচ্ছেদের সপ্তাহ না ফেরুতেই ফের নির্মাণ করার ঘটনা ইতোপূর্বে অসংখ্যবার ঘটেছে।
যোগাযোগ করা হলে শাওন বলেন, ‘হোটেলটি নির্মানের বৈধ কোন কাগজপত্র আছে কিনা তা ওসি জসিম এবং সাইফুল করিম জানবে। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। তবে আমি তাদের পক্ষে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই শুধুমাত্র নির্মাণ কাজ দেখাশুনা করছি।’
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম আমাদের রামু কে বলেন, ‘হোটেলটি নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেয়া হয়নি। কোন বৈধ কাজপত্র দেখাতে না পারায় ১৫ ডিসেম্বর অভিযান চালিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার পর কৌশলে তারা পুনরায় নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কাজ বন্ধ রাখতে অফিসিয়্যাল চিঠি ইস্যু করা হচ্ছে। আইন অমান্য করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি’।
সাইফুল করিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চট্রগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন আমাদের রামু কে বলেন, ‘আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা। আমি কেন এভাবে ভবন করতে যাবো। এসব আমার নয়।’
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ( কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমেদ আমাদের রামু কে বলেন, ‘হোটেলটি নির্মাণে কোন ছাড়পত্র নেয়া হয়নি। জনবল না থাকায় আমরা অভিযান শুরু করতে পারছি না। তবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’






