হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে অর্থনীতি। অর্থনৈতিক চাকা সচল না রাখলে দেশের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। অর্থনীনৈতিক উন্নতি ছাড়া কোনো দেশ কখনো উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারে না। যে দেশের অর্থনীতি যত বেশি শক্তিশালী সেই দেশ তত বেশি উন্নত। তাই ফ্রি-ল্যান্সিং এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক চাকা শক্তিশালী করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ডিসেম্বর) কক্সবাজার বিয়াম অডিটরিয়াম সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী ‘লার্নিং এন্ড আর্নিং মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক। ‘আমরা হবো জয়ী-আমরা দূর্বার, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি হবে হাতিয়ার’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে আইসিটি ডিভিশনের “লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট” এর আওতায় কক্সবাজারে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় তিনি বলেন, বেকারত্ব পেছনে ফেলে ই-কমার্স, ই-শপ ইত্যাদি দিয়ে আমরা আয় করতে চাই। আগামী দু’মাসের মধ্যে কক্সবাজার থেকে ২শত’জন ফ্রি-ল্যান্সার তৈরী হবে। পর্যায়ক্রমে তা অন্তত ২ হাজারে পৌঁছবে।
জনপ্রিয় এই প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থ উপার্জন মানুষের প্রধান উদ্দেশ্য। এ জন্য নানা শ্রেণির লোকজন জীবনের ঝুঁকি নেয়। ঝুঁকি নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। আবার অনেকে বিদেশে কায়িক শ্রম করে দেশে পাঠায়। অতিরিক্ত শারিরীক শ্রম বিসর্জন দিয়ে এখন আর আয় করতে হবেনা। কিছুটা মেধা খাটালেই ঘরে বসে আয়-রোজগার সম্ভব। সে পথেই এগুচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে আমরা সফলতাও পাচ্ছি। সবাইকে সঙ্গি করে আমরা পরিপূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশকে ডিজিটাল করার দৃঢ় শপথ নিয়ে এগিয়ে চলছে। কক্সবাজার যতটুকু এগিয়ে গেছে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। তিনি তরুণদের লার্নিং এন্ড আর্নিং-এ এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক, লার্নিং এন্ড আর্নিং প্রকল্প পরিচালক তপন কুমার নাথ, ‘লার্নিং এন্ড আর্নিং’ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান রেডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান, দৈনিক আমাদের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক দেলোয়ার হোসাইন ফারুক, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের ৩জন সেরা ফ্রি-ল্যান্সারকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ তুলে দেন। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, মোয়াজ্জেম হোসেন শাকিল, আরিফুল ইসলাম ও মো. আবদুল্লাহ। মোয়াজ্জেম হোসন শাকিল একজন ফ্রি-ল্যান্সর হলেও পেশাগত সাংবাদিক। তার রয়েছে মোয়াজ্জেম আইটি সলিউশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। অন্য দুজন ব্যক্তিগতভাবে ফ্রি-ল্যান্সিং কাজে দীর্ঘদিন জড়িত।
সভা শেষে ফিতা কেটে ‘লার্নিং এন্ড আর্নিং মেলা’র উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। মেলায় আউট সোর্সিং ও ফ্রি ল্যান্সিং সম্পর্কিত ৪০টিরও বেশী স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচী ছিলো।







