আমাদের রামু রিপোর্ট:
আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় ভুল রিপোর্টের কারণে মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছিল তিন বছরের শিশু পরাগ বড়ুয়াকে। রোগীর অবস্থার অবনতির পর দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে গেছে ধরা পড়লে দ্রুত অপারেশনে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসে শিশুটি। একইভাবে মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছিল খিন মে রাখাইন নামের আরেক রোগীকেও। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে এরা বেঁচে যান।
ঘটনাক্রমে এ দুজনেরই আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার পরীক্ষক ছিলেন শহরের শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেরটরীর ডা.এম সালাম প্রিন্স। কক্সবাজার নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টারের পরিচালক থাইয়রেড বিশেষজ্ঞ ডা.এম সালাম প্রিন্স সপ্তাহে চারদিন শেভরনে রোগী দেখেন এখানে । শুধু এ দুটি ঘটনাই নয়,এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ভুক্তভোগী আরো অনেকের।
পরাগ বড়ুয়ার বাবা মাছরাঙা টেলিভিশনের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সুনীল বড়ুয়া আমাদের রামু ডটকমকে জানান,পরাগের বয়স এখনো মাত্র ২ বছর ১০ মাস। গত রোববার ১২ মার্চ রাতে তার (পরাগ) বমি ও পেট ব্যাথা দেখা দিলে ঔষধ দেওয়ার পরও না সারায় পরদিন সোমবার (১৩ মার্চ) সকালে তিনি ছেলেকে নিয়ে কক্সবাজারে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.এম এন আলমের শরনাপন্ন হন । এ চিকিৎসক দেখে এপেনডিক্স সমস্যা বলে সন্দেহ হলে অন্যান্য কিছু টেস্টের সাথে জরুরী আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করাতে বলেন। বিকালে শেভরণে (শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেরটরী) ডা.এম সালাম প্রিন্স আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়ে রিপোর্ট দেন ‘কৃমি সমস্যা’ বলে। ফলে এ রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে আরো বিভ্রান্তি তৈরী হয়। পরে সন্তানের অবস্থার আরো অবনতি হলে চিকিৎসক পুনরায় ডা. ওসমানুর রশিদের কাছে আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে বলেন। সিআইসিতে ডা.ওসমানুর রশিদ রিপোর্ট ধরা পড়ল ‘পেটের ভেতরে এপেনডিক্স ফেটে গেছে’। এ সময় তিনি জরুরী অপারেশনের পরামর্শ দিলে এক ঘন্টার মধ্যে শহরের জেনারেল হসপিটালে সন্তানের জরুরী অপারেশন করে পেট থেকে এপেনডিক্স অপসারণ করা হয়। জরুরী অপারেশনের মাধ্যমে এই যাত্রায় ছেলেকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো গেছে।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারী) বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ শাখাওয়াত হোসেন ও লাইফ সাপোর্ট এনেসথেসিয়া কনসালটেন্ট ডা. বিধান পাল এ অপারেশন সম্পন্ন করেন।
তিনি আরো বলেন, সরকারি হাসপাতালে যে পরীক্ষাটি ২২০ টাকায় করানো যায় তা ৩০ভাগ ডিসকাউন্ট দেওয়ার পরও এখানে নিয়েছে ৯০০ টাকা। পাঁচগুন বেশি টাকা নেওয়ার পরও এসব রিপোর্ট ভিত্তিহীন। তাহলে সাধারণ মানুষ কার উপর আস্থা রাখবে। ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
আরেক ভুক্তভোগী খিন মে রাখাইনের স্বামী রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক,মংহ্লাপ্রু পিন্টু বলেন, বছর খানেক আগে তার স্ত্রীর পেট ব্যাথা শুরু হলে চিকিৎসক জরুরী আলট্রাসনোগ্রাম করানোর পরামর্শ দেন। ওইদিন শেভরনে নিয়ে গেলে আলট্রাসনোগ্রাম করে ডা.এম সালাম প্রিন্স কোন সমস্যা নাই বলে জানান। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরদিনই জরুরীভাবে অপারেশন করে তার স্ত্রীর পেট থেকে অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু ততক্ষনে পেটের ভেতরে অ্যাপেনডিক্স ফেটে গেছে। অবস্থা এতটাই জটিল হয়েছিল ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।
তিনি বলেন, ওই চিকিৎসক সঠিক রিপোর্ট দিলে আমি ওইদিনই অপারেশন করানোর উদ্যোগ নিতাম। তাঁর ভুল রিপোর্টের কারণেই আমার স্ত্রীকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে।
পরাগ বড়ুয়ার চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালের লাইফ সাপোর্ট এনেসথেসিয়া কনসালটেন্ট ডা. বিধান পাল বলেন,আমাদের মনে হয়েছে ওই রিপোর্টে একটু সমস্যা ছিল। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কক্সবাজার নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টারের পরিচালক ডা.এমিএস আলম প্রিন্স বলেন, এখানে ভুল করার কিছু নেই। রোগের অবস্থা অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনে যা দেখিয়েছে সেভাবেই রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।






