নিজস্ব প্রতিনিধি :
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে উপজাতীয়দের ঐতিহ্যবাহী এবং সামাজিক জুমিয়া খাজনা আদায়ের অন্যতম উৎসব ‘রাজপূণ্যাহ’ মেলা। বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে বৃহস্পতিবার (২১ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৪ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৪০তম রাজপূণ্যাহ্ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাজনা আদায় উৎসবের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় উপলক্ষে এ উৎসব ও মেলার আয়োজন করে থাকে বোমাং রাজা। এবার বোমাং সার্কেলের ১১৭তম রাজা ইঞ্জিনিয়ার উ চ প্রু প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করবেন।
খাজনা আদায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং এম.পি, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈ হ্লা, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি জাহাংগীর কবির তালুকদার পিএসসি, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেড জুবায়ের সালেহীন পিএসসি, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক ও পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় প্রমুখ।
এ উপলক্ষে বান্দরবান রাজার মাঠে তিনদিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় থাকবে নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাস, মৃত্যুকুপ বিচিত্রানুষ্ঠানসহ হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা দেখতে প্রতিবছর বান্দরবানে ভীড়জমে প্রচুর দেশী বিদেশী পর্যটকের। রাজবাড়ী সূত্রে জানা যায়, ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকায় বান্দরবানের ৯৫টি, রাঙামাটি রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল গঠিত। প্রায় ২০০ বছর আগে রাজা সাইক্লো এর আমল থেকে রাজপূণ্যাহ মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। মেলায় রাজার অধীনস্থ ১১৪মৌজার হেডম্যান ও কার্বারীরা রাজাকে খাজনা প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে আরো রয়েছে নতুন জুমের ফসল, গৃহপালিত হাঁস-মুরগী, নিজেদের বানানো ঐতিহ্যবাহী বিশেষ পানীয়, টাকা পয়সা ও মূল্যবান জিনিষপত্র। আর রাজা দুরদুরান্ত থেকে আগত এসব প্রজাদের মনোরঞ্জনের জন্য মেলার আয়োজন করে থাকে। রাজপূণ্যাহতে মেলার পাশাপাশি সারা রাতব্যাপী চলবে যাত্রা অনুষ্ঠান।
এদিকে রাজপূণ্যাহ উৎসবকে ঘিরে বান্দরবানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। চেকপোস্টগুলোতে যানবাহনে সর্তকতার সহিত তল্লাশি করা হচ্ছে। এছাড়াও উৎসবের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
বংশ পরম্পরায় বোমাং রাজ প্রথা অনুযায়ী রাজ পরিবারের সবচেয়ে বয়জ্যেষ্ঠ পুরুষ রাজা নির্বাচিত হন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে রাজকীয় পদ্ধতিতে দুর্গমাঞ্চলগুলোতেও পূণ্যাহ মেলার বার্তা পৌঁছিয়ে দেয়া হয়েছে রাজ পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।






