অনলাইন ডেস্ক:
রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর হারের কারণ খুঁজে বের করার তাগাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানত্রেী শেখ হাসিনা।
গণভবনে শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে তিনি এই মনোভাব প্রকাশ করেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী বছরের শুরু থেকেই সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলেও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মান্নান খান জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত আরেকজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
“প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করানো সর্বশেষ জরিপেও বলা হয়েছিল, অন্তর্কলহের নিরসন করা না গেলে জাতীয় পার্টি ভালো করবে। তবে এত বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন হারল, সেটা খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।”
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুকে প্রায় লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
মোস্তফা লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট। আর ৬২ হাজার ৪০০ ভোট গেছে ঝন্টুর নৌকায়।
এই নির্বাচনে পরাজয় হলেও রাজনৈতিক বিজয় হয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ বিজয় হিসেবে দেখছেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে দলীয় সভানেত্রী কারণ খোঁজার তাগাদা দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আগাম প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দিলেন।
এই কার্যক্রমে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের প্রত্যেকে একেকটি সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানান নেতারা।
দলটির সভাপতিমণ্ডলীর ওই সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কে কোন বিভাগের দায়িত্বে থাকবে, তা ঠিক করতে সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন বছরের ‘প্রথম সপ্তাহ’ থেকেই এই সাংগঠনিক সফর শুরু হবে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বার্ষিকী ৫ জানুয়ারি এবং ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান নেতারা।
“নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন,” বলেন সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য।
শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন চৌধুরী, সাহারা খাতুন, কাজী জাফর উল্যাহ, ফারুক খান, আবদুল মান্নান খান এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বিডিনিউজ।






