নিউজ ডেস্ক:
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শঙ্কা বাড়ছে আওয়ামী লীগে। কোন্দল নিরসনে দ্রুত শুদ্ধি অভিযান শুরু করা উচিত বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
শুক্রবার (৩০ মার্চ) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও কোন্দল বন্ধে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা। বৈঠকে কোন্দলে জড়িত নেতাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে উপস্থিত নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন— শনিবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অনুষ্ঠেয় সভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বিষয়টি অবহিত করবেন। দলের এই কোন্দল যে ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে সে সম্পর্কেও তাকে জানানো হবে। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা যেন এবিষয়ে দ্রুত সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেন ওই সভায় সেই অনুরোধও করবেন নেতারা। শুক্রবারের সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রসঙ্গটি তোলেন। গত বৃহস্পতিবার কয়েকটি জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেসব জায়গায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের আধিপত্য দেখা গেছে। ৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। হেরেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। এ বিষয় নিয়েই আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। তারপর উঠে আসে পেশাজীবী নির্বাচনগুলোর কথা। সেখানেও কোন্দল বিদ্যমান বলে হেরে যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দল’কে সভায় চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া, গাজীপুরে স্থানীয় একটি নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন— এই প্রসঙ্গটিও তোলেন ওবায়দুল কাদের।
সভার সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী দমনে ব্যবস্থা না নিলে জাতীয় নির্বাচনে ভযাবহ পরিণতি হবে বলে উল্লেখ করেন। এরপর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহাবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ একে একে সব নেতা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছান এবং এর বিহীত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। আজকের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়— শনিবার দলের সর্বোচ্চ ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় শেখ হাসিনার সামনে সবাই যেন কোন্দল ও বিদ্রোহের বিষয়টি তুলে ধরে আলোচনা করেন।
কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিষয়টি কিভাবে তোলা হবে,উপস্থিত অন্য নেতারা তা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের আশ্বস্ত করেন— ‘সেই সুযোগ আমি তৈরি করে দেবো।’
সভা সূত্র আরও জানায়, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি ছিল। বহিষ্কার করা হলেও জয়ী হয়ে আসার পরে ওইসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়েছে। ক্ষেত্রে বিশেষে তাদের মাফ করা হয়েছে। এগুলো বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভেতরে উৎসাহ যুগিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে অতীতে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কার্যত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। বিজয়ী হয়ে আসলে বহিষ্কার আদেশ আর বহাল থাকে না বরং তারা দলীয় পদ পান।
আগামী ১২ মে বার কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে কোন্দল ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ কাজ করে জয় ছিনিয়ে আনার বিষয়ে বলেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন






