হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বাংলাদেশ পুলিশের চৌকষ ওসি (অবসরপ্রাপ্ত) ছগীর আহমেদ তালুকদার মারা গেছেন। ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের টেকপাড়াস্থ ভাড়া বাসায় তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। ১৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রামের ভিআইপি টাউয়ারের তৃতীয় তলায় মরহুমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের ঢল নামে। জানাজা নামাজ শেষে নগরের কতোয়ালির আসকার দিঘীরপাড় কবরস্থানে ছগীর আহমেদ তালুকদারের মরদেহ দাফন করা হয়।
প্রয়াত ওই প্রাক্তন ওসির নিজ বাড়ি রাঙ্গামাটি জেলার তবলছড়ির স্বর্ণটিলা গ্রামে। তবে একযুগেরও বেশি সময় ধরে বসবাস চট্টগ্রামে। এরই মাঝে তিনি কক্সবাজারেও ভাড়া বাসা নেন। শহরে আসলে সেই বাসায় তিনি দিনযাপন করতেন।
পারিবারিক সূত্র বলছে- বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ছগীর আহমেদ তালুকদারের পুলিশী জীবনের সূচনা হয়। বাইশারী পুলিশ ফাঁড়ির (বর্তমান বাইশারী পুলিশ তদন্তকেন্দ্র) দারোগা থাকা অবস্থায়- রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বিশিষ্ট জমিদার প্রয়াত আলহাজ্ব নাজের চৌধুরীর বড় মেয়ে রোকেয়া বেগম ওরফে বিনুর সঙ্গে তিনি শুভ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের সাংসারিক জীবনে এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাঁরা বর্তমানে লন্ডন এবং দুবাইতে বসবাস করছেন। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে দুবাই থেকে আকাশ পথে দ্রæত চট্টগ্রামে পৌঁছেন একমাত্র ছেলে মো.ইকবাল ছগীর রুবেল। আর লন্ডনে অবস্থানরত একমাত্র কন্যা ফারজানা ছগীর সুমা বাবার আত্মার মাগফেরাতের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ছগীর আহমদ তালুকদার সর্বশেষ কতোয়ালি থানার ওসি হিসিবে কর্মরত ছিলেন। এরপর অবসরে যান। ইতোপূর্বে তিনি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ডিআইওয়ান, কক্সবাজার সদর মডেল থানা, মহেশখালী থানা ও বেনাপুল থানাসহ দেশের নানা প্রান্তে অত্যন্ত দক্ষতার সহিত ওসির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে জীবনের যুদ্ধ যে কতটা বীরত্বের গৌরবে উজ্জ্বল, সেটিই তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।







