অর্পন বড়ুয়া :
সারাদেশে চলমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান কক্সবাজারেও জোরদার হয়েছে। মাদক বিরোধী অভিযানে র্যাব ও পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় কক্সবাজারে এ পর্যন্ত ৫ জন মাদক ব্যবসায়ি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন পুলিশের সাথে এবং ২ জন র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই জন জনপ্রতিনিধি। তবে অভিযান শুরুর পর কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের ইয়াবাডন খ্যাত মাদক ব্যবসায়িরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে; এমনই দাবী স্থানীয়দের। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে এবং পার্বত্য অঞ্চলে।
কক্সবাজারে মাদক বিরোধী অভিযানে নিহতরা হলেন- কক্সবাজার সদরের কলাতলী এলাকার মোহাম্মদ হাসান, টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আকতার কামাল, মহেশখালীর মোস্তাক আহমদ এবং টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক ও নেত্রকোনার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি মুজিবুর রহমান। একরামুল ও মুজিবুর র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বাকী ৩ জন পুলিশের সাথে পৃথক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয়। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না এখনও পর্যন্ত কোন আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি।
জানা গেছে, এরই মধ্যে বুধবার (৩০ মে) রাত ১টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কবিতা চত্বর এলাকায় র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নেত্রকোনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ি মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছে। নিহত মুজিবুর রহমান নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের তেতুলিয়া এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৬ হাজার পিচ ইয়াবা, ১টি ওয়ান শুটার গান, ৩ রাউন্ড গুলি ও ২টি খালি খোসা উদ্ধার করা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানায় কক্সবাজার র্যাব সাত।
শনিবার (২৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নোয়াখালীপাড়া এলাকায় র্যাব ৭-এর একটি দলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর। তবে একরাম নিহতের ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন একরাম ইয়াবা ব্যবসায়ি ছিলেন না।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ মে) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মহেশখালী উপজেলার বড়মহেশখালী ইউনিয়নের দেবেঙ্গাপাড়া পাড়াতলী এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মোস্তাক আহামদ নামে ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। নিহত মোস্তাক আহামদ ওই ইউনিয়নের মুন্সিরড়েইল গ্রামের আনোয়ার পাশার ছেলে। এসময় চারটি দেশীয় তৈরি বন্দুক এবং সাত রাউন্ড গুলি, এক হাজার ইয়াবা ও ৩০ রাউন্ড গুলি খোসার উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগের দিন রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের উত্তরণ কাটা পাহাড় এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ি মোহাম্মদ হাসান নিহত হয়। তিনি কলাতলী আদর্শগ্রাম এলাকার মৃত খুইল্যা মিয়ার পুত্র। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় বন্দুক ও দু’রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৫ মে) সকাল ৯টার দিকে রামুর হিমছড়ি দরিয়া নগর থেকে উখিয়া-টেকনাফের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বড় বোন শামসুন্নাহারের দেবর আকতার কামালের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। এসময় ঘটন্স্থাল থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, ৪ রাউন্ড কাতুজ ও ৪ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোস্তাক আহমদ, মোহাম্মদ হাসান ও ইউপি সদস্য আকতার কামাল পৃথক ঘটনায় ইয়াবা ব্যবসায়িদের মধ্যে গুলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে; এমন দাবী পুলিশের।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান জানিয়েছেন- প্রকৃতপক্ষে যে বা যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে কাউকে বিচার বর্হিভুত ভাবে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে মেরে ফেলা এটা আমরা কোন ভাবেই সমর্থন করতে পারি না। এই অভিযানের আওতায় যদি কোন নিরীহ মানুষ মারা গেলে এটি সংশোধনের কোন সুযোগ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের এই অভিযানে সাধারণ মানুষের নীরব সমর্থন থাকলেও আমরা মনে করি এটি সাময়িক। স্থায়ী সমাধান ক্রসফায়ারের মাধ্যমে সম্ভব নয়- যোগ করেন সাবেক এই মানবাধিকার সংগঠক।
কক্সবাজার র্যাব সাত এর অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন জানিয়েছেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছি। কয়েকদিন আগেও লক্ষাধিক ইয়াবাসহ ১০ জনকে আটক করেছি। আমাদের আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে কেউ যদি আক্রমন চালায় আমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। মাদকের ক্ষেত্রে অপরাধপ্রবণ কক্সবাজার অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। আমরা খবর রাখছি। সঠিক সময়ে নতুন অভিযান পরিচালিত হবে।

এদিকে, নিহত আকতার কামাল বিয়াই প্রসঙ্গে সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক স্বাক্ষাতকারে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি জানিয়েছেন, তার কোন বিয়াই নেই। নিহত আকতার কামাল তার বিয়াই নয়। গণমাধ্যম তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। তিনি বলেন- আমার পরিবারের কেউ যদি ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাদের মধ্যে কেউ চলমান অভিযানের আওতায় আসলে আমার কোন আপত্তি নাই- বলেন এমপি বদি।







