আমাদের রামু প্রতিবেদকঃ
নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে মানুষদের নিকট থেকে আসল স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার এক অভিনব কৌশল রপ্ত করেন এক প্রতারক চক্র। সম্প্রতি এই ধরণের একটি চক্রের খপ্পরে পড়া দুই মহিলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে।
কক্সবাজার খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া পেতনা বাপের পাড়া জনৈক শফিক আহমেদের ছেলে সিএনজি চালক রেজাউল করিম এবং একই এলাকার রশিদ আহমদ এর ছেলে রবিউল হক ও বাংলাবাজার চেরাংঘর জুমছড়ি এলাকার সিরাজ এই তিনজন মিলে অভিনব কায়দায় এক মহিলার স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়েছেন।
জানা যায়, গতকাল ৬মে সন্ধ্যায় ভোলা বাবুর পেট্রলপাম্পের সামনে থেকে রামুর জোয়ারিয়ানালার তিনজন মহিলা কক্সবাজারে ঈদের শপিং শেষে রামু ফেরার উদ্দেশ্যে সিএনজিতে উঠেন। সিএনজি চালক রেজাউল করিম তার সহযোগী নবিউল হও ও সিরাজকে দুইপাশে নিয়ে রওনা দেন।
কক্সবাজার বাস টার্মিনাল ফেলে একটু সামনে আসলেই সিএনজি চালকের পাশে বসা নবিউল হক গাড়ি থামিয়ে রাস্তা থেকে কি যেন একটি মূল্যবান বস্তু কুড়িয়ে নেন। সিএনজিতে বসা মহিলাদের জিনিসটা দেখিয়ে সাথে থাকা কাগজে লেখাটি পড়ে দেখতে বলেন। উক্ত কাগজে লেখা আছে পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণের বারটি কোন এক হতভাগা পিতা তার মেয়ের বিয়ের জন্য স্বর্ণের দোকানে অলংকার বানানোর জন্য পাঠিয়েছেন পথিমধ্যে তা হারিয়ে গেছে। প্রতারক চক্র স্বর্ণের বারটি কুড়িয়ে পেয়ে না চেনার ভান করে মহিলাদেরকে সেটা নেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেন এবং বিনিময়ে তাদের নিকট থাকা গলার চেইন দিয়ে দিতে বলেন। মেয়েটি নিজের গলার চেইনটি তাদের হাতে তুলে দিয়ে পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণের বার পেয়ে মহাখুশি। এরপর প্রতারক চক্রের দুই সহযোগী কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া সোনার চেইনটি নিয়ে কক্সবাজার লিংক রোডে নেমে পড়েন। প্রতারক চক্রের অপর সদস্য সিএনজি চালক রেজাউল করিম মহিলাদেরকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য রামু চৌমুহনীতে এলে মহিলাদের বোধশক্তির উদয় হয়। তারা বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। উৎসুক জনতার কেউ একজন মোবাইল ফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে অভিযান পার্টির একটি দল সেখানে পাঠাই। তারা প্রতারক চক্রের নেতা সিএনজি চালক রেজাউল করিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে সিএনজি চালক রেজাউল করিম উপস্থিত সবার সামনে প্রতারণার ঘটনা স্বীকার করেন এবং তার সহযোগীদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করেন।
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, পলাতক অপর দুই সহযোগী প্রতারককে গ্রেফতার ও হাতিয়ে নেওয়া আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন উদ্ধারের জন্য রামু থানা এবং কক্সবাজার থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে।







