অনলাইন ডেস্কঃ
কামাল হোসেন ও এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী জোট বাঁধাকে স্বাগত জানালেও তাদের পাঁচ দফকে ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ভোটের সময় বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনসহ পাঁচ দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্ট।
ভিয়েতনাম সফরের আদ্যোপান্ত জানাতে রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, “ড. কামাল হোসেন এবং তার সাথে যারা ছিলেন, তারা যে বক্তব্য রেখেছেন, সেটা সংবিধান পরিপন্থি, সংবিধান এগুলো অ্যালাও করবে না।
“কারণ নির্বাচন হবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অধীনে সংবিধান অনুসারে এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, সংবিধানের বাইরে যাব না।”
একইদিন ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও একই কথা বলেন।
তিনি বলেন, “এই দাবিগুলো অপ্রাসঙ্গিক, অবান্তর, অপ্রয়োজনীয় ও অসাংবিধানিক। এখন সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার করার তো প্রয়োজন নেই।
“আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় ঠিক সেভাবেই নির্বাচন হবে আমাদের দেশে। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী, এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই।”
নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এখন ‘মামাবাড়ির আব্দার’ করা চলবে না মন্তব্য করে কাদের বলেন, “…সংসদের শেষ অধিবেশন অক্টোবর মাসের ২০ তারিখের আগেই শেষ হয়ে যাবে। এরপর আর সংসদ বসবে না নির্বাচন পর্যন্ত। এ সংসদ সদস্যদের কোনো ক্ষমতা ও কার্যকারিতা থাকবে না। কাজেই এটা ভেঙে দেওয়া, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো রেখে এবং অকার্যকর – এর মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়, আমি বুঝতে পারি না।”
সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন সেনা মোতায়েন হবে না, এটা আমরা বলব না। প্রয়োজন হলে সেনা মোতায়েন হবে। যদি সময় এবং পরিস্থিতিতে মোতায়েন করা দরকার হয়। সেই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করলে, সরকার প্রয়োজনে এবং বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে কীভাবে মোতায়েন হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে।”
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময়ও ‘এখন নেই’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
“এখানে তো বিএনপিরও প্রতিনিধি রয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই রাষ্ট্রপতি এ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে।”
যুক্তফ্রন্ট ঘোষিত পাঁচ দফা বিএনপির দাবির সঙ্গে মিলে গেছে কি না- এই সাংবাদিকদের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এটা মিলে গেল কিনা, তা দেখা আমাদের কোনো বিষয় না। বিএনপি কার সঙ্গে যাবে, কীভাবে যাবে তা আমাদের বিষয় না।
“আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যুক্তফ্রন্টের নেতারা বলেছেন বিএনপির প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলাম থাকলে তারা বিএনপির সঙ্গে যাবে না। এখানে তো আমাদের কোনো মন্তব্য নাই।”
তবে দুই নেতাই কামাল হোসেন ও এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নতুন জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তোফায়েল বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট আছে, বিএনপির নেতৃত্বে জোট আছে। বি চৌধুরী ও কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যদি আরেকটি জোট হয় এটাকে আমরা অভিনন্দন জানাই।”
এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেনের প্রসঙ্গে বলেন, “ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া সিটে এমপি হয়েছিলেন। ছিয়াশি ও একানব্বই সালে তাকে (আওয়ামী লীগ থেকে) মনোনয়ন দেওয়া হলেও কোনো নির্বাচনে বিজয়ী হননি। আমরা আশা করি, এবার তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং বিজয়ী হবেন সেই কামনা করি।
“দেশের মানুষ তাদেরকে বেশি ভালোবাসে যারা দলছুট না, ঘনঘন যারা দল বদলায়, নীতি বদলায় তাদেরকে মানুষ পছন্দ করে না, আমি ছোট মুখে বড় কথা বললাম।”
কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি চেয়েও পাননি বলে যে অভিযোগ করেছেন, তা সত্য নয় বলে দাবি করেন তোফায়েল।
“সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি দেওয়া হয় না বলে তারা দাবি করেছেন। দরখাস্তই করেননি, বলে পারমিশন পায়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাদের সেখানে সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে, মঞ্চও করে দেওয়া হবে।”
ওবায়দুল কাদের বলেন, “নতুন নতুন জোট হলে স্বাগত, শত ফুল ফুটুক। গণতন্ত্র তো; অসুবিধা নাই। নতুন নতুন জোট হোক, নির্বাচন করুক।”
বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে যুক্তফ্রন্টই বিএনপির বিকল্প হয়ে উঠবে কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “সেটা আমরা জানি না। তবে আমরা জানি, বিএনপি না এলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব নাই। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরির কোনো সুযোগ নাই। সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই এবার নির্বাচিত হবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের বিকল্প কী? আমাদের বিকল্প হচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। যাদের দুঃশাসনে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত অত্যাচার, নির্যাতন করেছে, ব্লাডি পলিটিক্স ছিল। সেই নির্যাতন অন্ধকারে কি কেউ ফিরে যেতে চান? আমরা মনে করি না আমাদের সবকিছু শুদ্ধ; আমাদের ভুলক্রুটিও আছে কিন্তু ভুলত্রুটি সংশোধনের সৎসাহস শেখ হাসিনার রয়েছে।
“দলের মধ্যে কেউ অন্যায় করলে তাকে আমরা শাস্তি দেই। কিন্তু আমাদের বিকল্প যারা ভাবেন, তারা তো নিজেদের লোকদের শাসন করেন নাই।”
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা-সমাবেশ করতে বাধা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছেন, সভা-সমাবেশ করার ব্যাপারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যাতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, এ কথা পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিতে। আজকে আমি পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিয়েছি।”
তবে রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
“পল্টনে রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ, প্রেস ক্লাবের সমানে সমাবেশ – এসবের প্রয়োজন নাই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উন্মুক্ত; যারাই অনুমতি চাইবে পুলিশ অনুমতি দিবে।”
সরকারের বিরুদ্ধে ‘নালিশ’ জানাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতিসংঘে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে বলে মনে করেন প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল।
তিনি বলেন, “নালিশ করতে যান, কিন্তু সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি আর ডেস্ক অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করলে বাংলাদেশের মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়।”
ওবায়দুল কাদের বলেন, “সাহস থাকলে জনগণের কাছে নালিশ করুন। বিদেশে গিয়ে নালিশ করে দেশকে কেন খাটো করছেন?
“জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণ, বাস্তবে দেখা গেল এমন কোনো আমন্ত্রণ নাই। কী রকম তারা প্রতারণা করে! রাজনীতিতে ছদ্মবেশী প্রতারণা পার্টির নাম বিএনপি। বিএনপি এখন বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ কান্নাকাটি পার্টি হয়ে গেছে।”
সূত্রঃ বিডিনিউজ





