আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহী হামলার কথা বলে সেখানে বিদ্রোহ গুঁড়িয়ে দিতে সরকারের সেনা অভিযানের নির্দেশ এবং নতুন বছরের শুরু থেকেই সেখানে শুরু হওয়া সামরিক তৎপরতায় ফের ঘোরতর লড়াইয়ে রাজ্যটি অশান্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাখাইনে সম্প্রতি কয়েকটি সীমান্ত পোস্টে বিদ্রোহী হামলায় অন্তত ১৩ পুলিশ নিহত হওয়ার জেরে মিয়ানমার সরকার সেনাবাহিনীকে রাজ্যটিতে বিদ্রোহ গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ত্রাণ কর্মীরা বলছে,জানুয়ারির শুরু থেকে রাখাইনে সামরিক বাহিনীর সারি সারি বিমান ও ট্রাক পৌঁছাচ্ছে। আর এ থেকেই সেখানে ঘোর লড়াইয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ডিসেম্বরে সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মি’র মধ্যে লড়াইয়ের কারণে পাঁচ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এর আগে ২০১৭ সালের শেষ দিকে সীমান্ত পোস্টে এ ধরনের হামলার পর রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সেনা অভিযান শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
যা নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সরকারের ‘নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক’ অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
মিয়ানমার জুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সু চি সরকারকে এবার পরীক্ষায় ফেলেছে আরাকান আর্মি।
রাখাইনে জাতিগত সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সেখানে নতুন করে আবারও সহিংসতা মাথাচাড়া দেওয়ায় এ সংকটকে আরো গভীর হয়েছে। জাতিসংঘ যাকে ‘সাইকেল অব ভায়লেন্স’ বলে বর্ণনা করেছে।
রাখাইনে স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে প্রায় এক দশক আগে আদিবাসী বৌদ্ধদের দল ‘আরাকান আর্মি’ সংগঠিত হয়।
আরাকান আর্মি শুরুর দিকে জেড খনিতে নিজেদের ভাগ্য যাচাই করতে রাখাইন থেকে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার চেষ্টা করা দরিদ্র আদিবাসী বৌদ্ধদের দলে টেনে দল ভারি করে।
তাদের চীন সীমান্তবর্তী কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মির (কেআইএ) নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হত।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোর মধ্যে কেআইএ সবচেয়ে শক্তিশালী।
২০১৬ সালের শেষ দিকে কেআইএ’র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে আরাকান আর্মি।
আরাকান আর্মি সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের পাশপাশি ২০২০ সালের মধ্যে রাখাইন জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে নানা রকম প্রচারণা চালাচ্ছে।
অনলাইনে পোস্ট করা কয়েকটি ভিডিওতে দলটির তরুণ নারী-পুরুষ উভয় সদস্যদের শারীরিক কসরৎ করতে এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র ও স্নাইপার রাইফেলের গুলি চালাতে দেখা যায়।
ভিডিওগুলোতে সেনাবাহিনীর টুপি ও মোটা ফ্রেমের চশমা পরা আরাকান আর্মির ক্যারিসম্যাটিক প্রধান তিওয়ান এমরাত নাইংকে দেখা গেছে।
সূত্রঃ বিডিনিউজ





