অনলাইন ডেস্কঃ
কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে আপাতত গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

তবে আদালত বলেছে, সারদা ও রোজভ্যালি অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় যেসব তথ্যপ্রমাণ ও আলামত রাজিব কুমার জব্দ করেছিলেন, সেসব ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিবিআইকে হস্তান্তর করতে হবে। সেই সঙ্গে এ তদন্তে তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করে যেতে হবে।
সিবিআইয়ের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের বিরোধের জেরে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার গত কয়েক দিন ধরে রয়েছেন ভারতীয় সংবামাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে তার বাড়িতে হেনস্তার শিকার হন সিবিআই কর্মকর্তারা। কলকাতার পুলিশ সিবিআই কর্মকর্তাদের বাড়িতে ঢুকতে না দিয়ে আটক করে থানা নিয়ে যায়, অবশ্য পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর সিবিআই কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ নিয়ে আদালতের দারস্থ হলে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ওই সিদ্ধান্ত দিল।
এদিকে ভারতের জাতীয় নির্বাচনের আগে সিবিআই ও রাজ্য পুলিশের এই বিরোধকে রাজনৈতিক চেহারা দিয়ে রীতিমত তুলকালাম বাঁধিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত তিন দিন ধরে তিনি কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে অবস্থান নিয়ে আছেন, পশ্চিমবঙ্গের বাংলায় যাকে বলা হচ্ছে ধর্না।
মমতার এই নাটকীয় ভূমিকায় বিষয়টি এখন কেন্দ্র বনাম রাজ্য সরকারের সংঘাতের রূপ পেয়েছে, যাকে ‘নজীরবিহীন’ বলছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
এনডিটিভি জানিয়েছে, রাজিব কুমারকে গ্রেপ্তার না করার যে সিদ্ধান্ত ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে, তাকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা।
তার অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্র সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দেশের সব গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলছে।
অন্যদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাসহ তৃণমূল নেতাদের বাঁচাতে সারদা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ গায়েব করেছেন রাজীব কুমার।
আদালতের আদেশের পর মমতার বক্তব্যের জবাবে বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, “সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টই বলে দিয়েছে, সিবিআই ডাকলে জেরায় আসতে হবে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে। সেটা কলকাতায় হবে না, হবে শিলংয়ে। কেউ কেউ এটাকে তাদের জয় বলছেন। আমরা আর কী বলতে পারি?
“প্রশ্নটা হল, দুই বছরের বেশি সময় ধরে উনি সিবিআইয়ের জেরা এড়িয়ে চলছিলেন কেন? সিবিআই অনেক দিন ধরেই চাইছিল, উনি জেরায় আসুন। সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশই দিয়েছে।’’
বছর ছয়েক আগে সারদা ও রোজভ্যালি কেলেঙ্কারিতে এমএলএম ব্যবসার ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের হাজার হাজার কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে মমতার তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল ওঠে।
ওই কেলেঙ্কারির তদন্তের জন্যে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে যেসব তথ্যপ্রমাণ তিনি জব্দ করেছিলেন তার সব তিনি হস্তান্তর করেননি বলে সিবিআইয়ের অভিযোগ।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে আদালতে একটি হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সারদা দুর্নীতি মামলার আসামিদের মোবাইলের কল রেকর্ড বিকৃত করে সিবিআইকে দিয়েছেন রাজীব কুমার। পাশাপাশি মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ তিনি নষ্ট করেছেন।
শুনানি শেষে এ বিষয়ে কলকাতা পুলিশের কমিশনারের ব্যাখ্যা চেয়ে একটি নোটিস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি আবার এ মামলার শুনানি হবে।
সূত্রঃ বিডিনিউজ





