অনলাইন ডেস্কঃ
একটি হত্যা মামলায় ১০ বছর ভারতের কারাগারে বন্দি জীবন কাটিয়ে গতবছর ফেরা বাদল ফরাজীকে এখন আবার দেশের কারাগারে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে কি না- সেই প্রশ্ন এসেছে হাই কোর্টে।

কেরানীগঞ্জ কারাগারে থাকা বাদলকে যে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিত করতে কেন তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
এক রিট আবেদনে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রুল জারি করে।
আইন ও সালিস কেন্দ্রের করা এ রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার)।
পরে শাহীনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে স্বারষ্ট্র সচিব (সুরক্ষা বিভাগ), পররাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ৮ জুলাই বাদল ফরাজির মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী।
আদালত রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়ে আদেশে বলে, সরকার যেহেতু উদ্যোগী হয়ে বাদলকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে, সেহেতু সরকারই হয়ত তার মুক্তির পদক্ষেপ নেবে। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা দেওয়া ঠিক হবে না।
২০০৮ সালে ৬ মে দিল্লির অমর কলোনিতে এক বৃদ্ধাকে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় বাদলের। তবে বাদল তার দুই মাসেরও বেশি সময় পর ১৩ জুলাই ভারতে ঢুকেছিলেন বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাদল সিং নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল পুলিশ। তাকে ধরতে সীমান্তে সতর্কতা জারি হয়েছিল। এর মধ্যে বেনাপোল চেকপোস্ট হয়ে টুরিস্ট ভিসায় ভারতে ঢুকেই গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশের বাদল।
হত্যাকাণ্ডের সময় বাদল ভারতে ছিলেন না জানিয়ে তাকে মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠাতে ২০১২ সালে ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশন।
এরপরেও ২০১৫ সালে বাদলকে দোষী সাব্যস্ত করে দিল্লির একটি আদালত। রায়ে তাকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরে দিল্লি হাই কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে।
বাংলাদেশ হাই কমিশনের সহায়তায় বাদল ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেও বিফল হন।
গ্রেপ্তার হওয়ার সময় বাদলের বয়স ছিল ১৮ বছর; সে সময় ইংরেজি বা হিন্দি জানা না থাকায় মামলা চালাতে তাকে বেগ পেতে হয়। পরে কারাগারে লেখাপড়া করে আটটি ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করেন তিনি।
বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তির আওতায় গত ৭ জুলাই ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় বাদলকে। বর্তমানে তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
সূত্রঃ বিডিনিউজ
প্রতিবেদনটি ২০১৮ সালের ৭ জুলাই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ প্রকাশিত হয়েছিল। পাঠকদের স্বার্থে সংবাদটি পুণরায় প্রকাশ করা হল।





