অনলাইন ডেস্কঃ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ার। আওয়ামী লীগ সবসময়ই জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে। এ জন্য আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার এটা উপযুক্ত সময় কি-না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে আদালতের একটা সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে। সেটাকে তো উপেক্ষা করা যায় না।
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী নতুন নামে মাঠে আসার পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন বোতলে পুরাতন পানীয়’- বিষয়টি যদি এমন হয়, নাম পরিবর্তন করবে কিন্তু নীতি-আদর্শ একই এবং অটুট থাকবে, তাহলে সেটা কি পরিবর্তন হলো? এটাকে পরিবর্তন বলা চলে না।
এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জামায়াতের কোনো নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন, এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তবে জামায়াতের নেতারা দল পাল্টাতে পারেন, কিন্তু আদর্শ পাল্টাবেন না।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিরোধিতা করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল একেবারেই কম। গত জাতীয় নির্বাচনে দু’জন মাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এসব নিয়ে এতদিন খোঁজ-খবর করা হয়েছে। যারা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিতে থাকব।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলায় দুই দফায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক হবে। এই দুটি বৈঠকে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে পঞ্চম দফা নির্বাচন যেহেতু রমজানের ঈদের পর, তাই সিদ্ধান্তও পরে নেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে তাদের প্রার্থিতা আমরা রাখব না, বিকল্প প্রার্থী দেব। চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার একটা শাস্তি তো নিশ্চয়ই রয়েছে। পরের মিটিংয়ে এই শাস্তি নির্ধারণ হবে।
ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল প্রার্থী পাবে কীভাবে? কারণ ছাত্রদলের সবাই আদু ভাই। তারা প্রার্থী পাবে কীভাবে?
এর আগে ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া প্রমুখ।





