আজিজ রাসেলঃ
মানবতাবাদী ও অগ্রসর কবি আল মাহমুদ ছিলেন আধুনিক কালের কবিদের মধ্যে অন্যতম। তিনি শুধু কবি ছিলেন না, বরং প্রতিকুল স্রোতে পত্রিকা সম্পাদনাকারী একজন সফল সম্পাদকও ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি সদ্য প্রয়াত আল মাহমুদের স্মরণ সভায় এসব কথা বলেছেন আলোচকবৃন্দ।

সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার কর্তৃক আয়োজনে স্মরণ সভা মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বস্তরের সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, লেখক ও বিদগ্ধজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। প্রগতিশীল কবি আল মাহমুদের স্মৃতিচারণ ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে প্রাণবন্ত আলোচনায় প্রধান অতিথি কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী বলেছেন, আল মাহমুদ বিবিধ বৈপরীত্যের সহাবস্থানে বিপ্লবের ঘূর্ণায়িত পিস্টনের প্রাবল্যে ঈর্ষণীয় সংহতির নাম। প্রেম ও বিপ্লবের স্বপক্ষে তাঁর অনুরাগ একই উষ্ণতায় ব্যক্ত। যদিও প্রকাশে তিনি অতি সরল ও এক রৈখিক। ইতিহাস-লোক বিশ্বাস-নৃতত্ত্ব-রাজনীতির তথ্য ভারাক্রান্ত জটিল নির্মাণে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন কৌমের যৌথসংগ্রাম, শেষ পর্যন্ত নিয়ে যান প্রেমাক‚ল এক ব্যক্তিসত্তায়। কবি নিজেই উল্লেখ করেছেন প্রেম প্রকৃতি ও স্বদেশ তার অন্বিষ্ট। বৈচিত্রে ভাস্মর আল মাহমুদ, গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধে দক্ষতা দেখালেও কবিতাই তার সৃষ্টিশীলতার রঙ্গভ‚মি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল গ্রামের ১৯৩৬ সালে আঁতুড় ঘর হলেও নাগরিক হলাহল পান করে স্বীকৃতি প্রত্যাশায় ঢাকার নাগরিক সমাজে প্রবেশ করেন পঞ্চাশের দশকে। আরাধ্য কবিতা হলেও পেশা হিসেবে অবলম্বন করেছিলেন সাংবাদিকতা। লোক-লোকান্তর দিয়ে যাত্রা করে একে একে লিখে গেছেন কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, অদৃষ্টবাদীদের রান্না-বান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, আরব্য রাজনীর রাজহাঁস, প্রহরান্তের পাশফেরা, একচক্ষু হরিণ, মিথ্যাবাদী রাখাল, আমি দূরগামী, দোয়েল ও দয়িতা, পাখির কাছে ফুলে কাছে, হৃদয়পুর, দ্বিতীয় ভাঙন, তুমি তৃষ্ণা তুমিই পিপাসার জল ইত্যাদি।
একজন শব্দসৈনিক হয়েও তিনি ছিলেন সশস্ত্র মুক্তিসৈনিক-মহান মুক্তিযোদ্ধা। লোক-লোকান্তরের বেদনার্দ হৃদয়ের উচ্চারণ আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কবিকৃতি সোনালী কাবিনে প্রোজ্জ্¦ল। বাংলা সাহিত্যে বাঁক বদলকারী স্বকীয় অনন্যতায় দীপ্তিময়।
স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ‚্যত্থান ও একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলি তাঁকে স্পর্শ করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী অস্থির দিনগুলোতে বিরোধীধারার অন্যতম প্রধান পত্রিকা গণকণ্ঠ সম্পাদনা করেছেন আল মাহমুদ। সত্য ও নির্ভীক উচ্চারণের জন্য এ সময় কারাবরণও করেন তিনি। তৎকালীন গণকণ্ঠ থেকে হাল আমলের দৈনিক কর্ণফ‚লী সম্পাদনায় কল্যাণকর ও গণমূখী সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যকে বিশে^র দরবারে যাঁরা পরিচিত করেছেন তাঁদের মধ্যে আল মাহমুদ অন্যতম। তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, কবি, গল্পকার, সাংবাদিক, সমাজ সংস্কারক ও সংগঠক।
সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাহারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সৈকত সম্পাদক মাহবুবর রহমান।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন’র সহকারী মহাসচিব নয়াদিগন্তের জেলা সংবাদদাতা জিএএম আশেক উল্লাহ, দৈনিক ইনকিলাব এর কক্সবাজার ব্যুরো চীফ ও বিশেষ সংবাদদাতা শামসুল হক শারেক, কবি রুহুল কাদের বাবুল, দৈনিক সংগ্রামের জেলা সংবাদদাতা কামাল হোসেন আজাদ, কক্সবাজার সিটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ওমর ফারুক ও দৈনিক ভোরের দর্পন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ইসলাম মাহমুদ প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক আনছার হোসেন, মোস্তফা সরওয়ার, গোলাম আজম খাঁন, ইব্রাহিম খলিল মামুন, এম. এ আজিজ রাসেল, আবদুল মতিন চৌধুরী, মো. জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী, ইকবাল বাহার চৌধুরী, ছৈয়দ আলম, আব্দুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, আতিকুর রহমান মানিক, মোহাম্মদ উর রহমান মাসুদ, মুক্তিযোদ্ধা মাসুম চৌধুরী, এরফানুল হক আফনান, জিয়াউল করিম ও এইচ এন আলম প্রমুখ।
স্মরণ সভায় দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন সদস্য দৈনিক সোনালী বার্তার প্রতিনিধি নুরুল হক চকোরী।





