হুমায়ুন কবীরঃ
রোহিঙ্গা সংকটে রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু এটাও সত্যি, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এ দুটি দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভূমিকায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের ভূমিকায় পরিবর্তন আসবে কীভাবে? বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বাণিজ্যের যে পরিস্থিতি তার পরিবর্তন না হলে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। এ কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো পদক্ষেপের প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনাই এখন নেই।

প্রস্তাব আসতে পারে, উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে; কিন্তু চীন-রাশিয়া আগের ভূমিকায় থাকলে তার ফলও বারবার শূন্যই হবে। আমার মনে হয়, মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের চেয়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ। এ কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেও ছোট করে দেখা যাবে না। আবার রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোও অত্যন্ত জরুরি। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের সামনে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
আসলে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় উদ্বেগের কারণ হলেও শেষ বিচারে এটি বাংলাদেশের জন্যই বড় সমস্যা। কারণ পুরো সংকটটাই বিপুল বোঝা হয়ে বাংলাদেশের কাঁধের ওপরে আছে। এটা সত্যি, রাতারাতি এ জাতীয় সংকটের সমাধান করা যায় না। আবার এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা অদূর ভবিষ্যতে আরও নানা জটিল সংকটের সৃষ্টি করতে পারে, সেটাও সত্য। সংকট যত জটিল হবে, বাংলাদেশের ওপর বোঝা আরও বাড়বে। অতএব সংকট সমাধান ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশকেই সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকায় থাকতে হবে।
এ সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সামনে একটাই পথ, কূটনৈতিক তৎপরতা। এর বিকল্প কিছুই নেই। কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধানে যেতে হবে। এ জন্য এখন রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে হবে। ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার যে প্রস্তাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উঠেছে, সেটাও কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রারই পরিচয়। আগেও সেফ জোনের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। কিন্তু এবার অনেকটা সুনির্দিষ্ট উপায়সহ প্রস্তাব এসেছে। এটা একটা কূটনৈতিক পথ। এর বাইরে আরও পথ ভাবতে হবে। কীভাবে, কোন পথে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাসহ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে, সে পথ খুঁজে বের করতেই হবে। সে পথ খুঁজে পাওয়াটা অসম্ভব নয় বলেও আমি মনে করি।
লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক বিশ্নেষক





