১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বুধবার
আমাদের রামু
  •  
  • কক্সবাজার জেলা
    • কক্সবাজার সদর
    • উখিয়া
    • কুতুবদিয়া
    • চকরিয়া
    • টেকনাফ
    • পেকুয়া
    • মহেশখালী
  • পার্বত্য চট্রগ্রাম
    • বান্দরবান
    • রাঙ্গামাটি
    • খাগড়াছড়ি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
    • রাজশাহী
    • সিলেট
  • মতামত
    • সম্পাদকীয়
    • গোলটেবিল বৈঠক
    • ধর্মকথা
    • সাক্ষাৎকার
    • তারুণ্যের লেখালেখি
    • ছড়া ও কবিতা
    • কলাম
    • সাধারণের কথা
    • অনলাইন ভোট
  • বিশেষ প্রতিবেদন
    • কীর্তিমান
    • প্রতিভা
    • ঐতিহ্য
    • অবহেলিত
    • পুরাকীর্তি ও প্রত্নতত্ত্ব
    • শেখড়ের সন্ধান
    • প্রতিষ্ঠান
  • রাজনীতি
    • আওয়ামীলীগ
    • বিএনপি
    • জাতীয়পার্টি
    • রাজনৈতিক দল সমূহ
    • ছাত্র রাজনীতি
  • নির্বাচন
    • স্থানীয় সরকার
    • সংসদ
    • ইসি
  • শিল্প-সাহিত্য
    • কবিতা
    • গল্প
    • উপন্যাস
    • আর্ট
    • চিঠি
    • ছড়া
    • প্রবন্ধ/নিবন্ধ
    • সংবাদ
  • বিবিধ
    • প্রধান খবর
    • রামু প্রতিদিন
    • পর্যটন
      • বৌদ্ধ ‍বিহার
      • স্থাপনা
      • প্রাকৃতিক
    • চাকরির খবর
    • শিল্প-সাহিত্য
    • সংস্কৃতি
    • বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি
    • উন্নয়ন
    • সাংস্কৃতিক
    • মানচিত্রে রামু
    • শিক্ষাঙ্গন
    • শিক্ষা
    • রামু তথ্য বাতায়ন
    • সমস্যা ও সম্ভাবনা
    • আমাদের রামু পরিবার
    • অপরাধ
    • আইন-আদালত
    • মন্ত্রী কথন
    • স্বাস্থ্য
ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
  •  
  • কক্সবাজার জেলা
    • কক্সবাজার সদর
    • উখিয়া
    • কুতুবদিয়া
    • চকরিয়া
    • টেকনাফ
    • পেকুয়া
    • মহেশখালী
  • পার্বত্য চট্রগ্রাম
    • বান্দরবান
    • রাঙ্গামাটি
    • খাগড়াছড়ি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
    • রাজশাহী
    • সিলেট
  • মতামত
    • সম্পাদকীয়
    • গোলটেবিল বৈঠক
    • ধর্মকথা
    • সাক্ষাৎকার
    • তারুণ্যের লেখালেখি
    • ছড়া ও কবিতা
    • কলাম
    • সাধারণের কথা
    • অনলাইন ভোট
  • বিশেষ প্রতিবেদন
    • কীর্তিমান
    • প্রতিভা
    • ঐতিহ্য
    • অবহেলিত
    • পুরাকীর্তি ও প্রত্নতত্ত্ব
    • শেখড়ের সন্ধান
    • প্রতিষ্ঠান
  • রাজনীতি
    • আওয়ামীলীগ
    • বিএনপি
    • জাতীয়পার্টি
    • রাজনৈতিক দল সমূহ
    • ছাত্র রাজনীতি
  • নির্বাচন
    • স্থানীয় সরকার
    • সংসদ
    • ইসি
  • শিল্প-সাহিত্য
    • কবিতা
    • গল্প
    • উপন্যাস
    • আর্ট
    • চিঠি
    • ছড়া
    • প্রবন্ধ/নিবন্ধ
    • সংবাদ
  • বিবিধ
    • প্রধান খবর
    • রামু প্রতিদিন
    • পর্যটন
      • বৌদ্ধ ‍বিহার
      • স্থাপনা
      • প্রাকৃতিক
    • চাকরির খবর
    • শিল্প-সাহিত্য
    • সংস্কৃতি
    • বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি
    • উন্নয়ন
    • সাংস্কৃতিক
    • মানচিত্রে রামু
    • শিক্ষাঙ্গন
    • শিক্ষা
    • রামু তথ্য বাতায়ন
    • সমস্যা ও সম্ভাবনা
    • আমাদের রামু পরিবার
    • অপরাধ
    • আইন-আদালত
    • মন্ত্রী কথন
    • স্বাস্থ্য
ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
আমাদের রামু
ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন

পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের: মৃত্যুতে আরো বেশি শক্তিশালী

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ৩০, ২০১৯
বিভাগ কলাম, প্রধান খবর
0
পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের: মৃত্যুতে আরো বেশি শক্তিশালী
Share on FacebookShare on Twitter

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুঃ
৩ অক্টোবর, দিবাগত রাত তখন পৌনে ১টা। প্রথমে খবর এল গুরুদেবের অবস্থা সংকটময়। আমরা বিহারস্থ ভিক্ষু-শ্রামণরা দ্রুত প্রার্থনায় বসতে যাচ্ছি। এর পাঁচ মিনিটের মাথায় ব্যবধানে খবর এল গুরুদেব আর নেই। মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। কাদঁতে কাদঁতে কিছুক্ষণ পরেই গুরুদেবের মৃত্যু সংবাদ দিয়ে ফেইসবুকে একটা পোস্ট দিলাম। আমার হাত চলছিলনা।

গুরুদেব তো এভাবে চলে যাওয়ার কথা ছিলনা! গুরুদেব চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিনিয়ত খবর নিতাম। সবসময় খবর পেয়েছি অবস্থা ক্রমশ উন্নতি করছে। হঠাৎ কি এমন হল গুরুদেবের! পরে জানলাম সিসিউ-তে থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর গুরুদেবকে বরাবরের মত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। এরইমধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে গত ২১ সেপ্টেম্বর তাকে সিসিউ (কার্ডিয়াক/করোনারি কেয়ার ইউনিট)-তে রেফার করা হয়। সেখানে অবস্থা ক্রমশ উন্নতি হলে তাকে ২৮ সেপ্টেম্বর কেবিনে নিয়ে আসা হয়। কেবিন থেকে গত ৩ অক্টোবর পুনরায় সিসিউ-তে নেয়া হয়। সেখানেই দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি প্রয়াণ করেন। রাতেই তার মরদেহ নিয়ে রামুর উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়। পরের দিন বিকাল প্রায় ৩টার দিকে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স রামুতে পৌঁছে। তখন এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাকে এক পলক দেখার জন্য রাস্তায় রাস্তায় জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে অগণিত মানুষের ঢল নামে। এখনো প্রতিদিন কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে মানুষের ভিড় লেগেই আছে। গত ৯ অক্টোবর দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তার শবদেহ ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পেটিকাবদ্ধ করা হয়।

আমরা আগামী জানুয়ারি মাসে তার অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের চিন্তাভাবনা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুরুদেবকে ব্যক্তিগতভাবে জানতেন। তিনি গুরুদেবকে অত্যন্ত সম্মান এবং শ্রদ্ধা করতেন। হয়তো এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথেও দেখা করা হতে পারে। গুরুদেবের মৃত্যু পরবর্তী আমাদের দিক থেকে একটা ভুল হয়ে গেছে। গুরুদেবের মরদেহ রাতে নিয়ে না এসে ঢাকায় একদিন রাখা উচিত ছিল। সেখানে রাখা হলে ঢাকার অসংখ্য বৌদ্ধরা তার শবদেহ দর্শন করার সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং একুশে পদকের মত রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে আরো ব্যাপক মর্যাদা এবং শ্রদ্ধা লাভ করার কথা ছিল। পরে ঢাকা থেকে প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ কক্সবাজারে আনা যেত। যারা গুরুদেবের সাথে ছিলেন তারা মরদেহ নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কাজটা এত দ্রুতার সাথে করেছেন যে আমরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগটাও পাইনি। তারাও হয়তো বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি।

২.

হরকুমার বড়ুয়া এবং প্রেমময়ী বড়ুয়ার তৃতীয় সন্তান বিধুভূষন বড়ুয়া। কক্সবাজার জেলার রম্যভূমি রামু উপজেলাধীন ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পশ্চিম মেরংলোয়া গ্রামে ১৯৩০ সালের ১০ জুন জন্ম নেন বিধুভূষন। শিশু এবং কিশোর কাল পেরিয়ে সবেমাত্র যৌবনে পা রাখলেও পার্থিব ভোগ-বিলাস এবং যৌবনের মত্ততা সংসারে শেকল পরাতে পারেনি বিধুভূষন বড়ুয়ার পায়ে। তৎকালীন বিশুদ্ধ আবাল্য ব্রক্ষচারী, ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু, ষষ্ঠ সংগীতিকারক, ত্রিপিটক বিশোধক খ্যাত, পণ্ডিত আর্যবংশ মহাথের’র আদর্শপূরণ ভিক্ষু জীবন বিধূভূষন বড়ুয়ার মনন আর জীবনে ভীষণ প্রভাব ফেলে। সংসারের মরীচিকাতুল্য মায়া-মোহ পেছনে ফেলে বিধূভূষন গুরু আর্যবংশ মহাথের এর কাছে দীক্ষা নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিলেন। ১৯৫০ সালের এক শুভক্ষণে বিধুভূষন বড়ুয়া প্রব্রজ্যাধর্মে দীক্ষিত হলেন। গুরু আর্যবংশ মহাথের বিধুভূষন বড়ুয়ার গার্হস্থ্য জীবনের নামের স্থলে ধর্মীয় নাম রাখলেন সত্যপ্রিয় শ্রামণ। সত্যপ্রিয় শ্রামণ একই বছরে উনিশ বছর পাঁচ মাস বয়সে উপসম্পদা তথা ভিক্ষুধর্ম লাভ করেন। বৌদ্ধধর্মীয় বিনয়-বিধান অনুসারে বয়স বিশ বছর পূর্ণ হলে পরে ভিক্ষুধর্মে দীক্ষিত হওয়া যায়।

তবে মায়ের গর্ভে থাকার সময় পর্যন্ত ধরেও বিশ বছর হিসেব করে ভিক্ষুধর্ম গ্রহণ করা যায় মর্মে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। সেই সত্যপ্রিয় শ্রামণ একটু একটু করে আজকের পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের, এক কিংবদন্তী পুণ্যপুরুষে পরিণত হলেন। তিনি একাধারে উপ-সংঘরাজ, বৌদ্ধধর্মীয় শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত, বিনয়াচার্য, সমাজ সংস্কারক, বাংলাদেশী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সাবেক সভাপতি, দক্ষিণ চট্রগ্রামের আঞ্চলিক সংঘনায়ক, ভারত-বাংলা উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংঘপুরোধা, ত্রিপিটক বিশারদ, বাংলাদেশি বৌদ্ধদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু, অগ্গমহাসদ্ধম্মজ্যোতিকধজ উপাধিপ্রাপ্ত (অগ্রমহাসদ্ধর্মজ্যোতিপতাকা), অনুবাদক এবং রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক একুশে পদকে ভূষিত অসাম্প্রদায়িক চেতনাসমৃদ্ধ একজন ব্যক্তিত্ব।

৩.

তখন ১৯৫৪ সাল। ভিক্ষুধর্মে দীক্ষিত হওয়ার মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে নবদীক্ষিত সত্যপ্রিয় ভিক্ষু উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য তৎকালীন ব্রহ্মদেশ খ্যাত মিয়ানমারে গমন করেন এবং রেঙ্গুন শহরে জম্বুদ্বীপ মহাবিহারে থেকে ধর্মদূত পালি কলেজে ভর্তি হন। সেখানে টানা দীর্ঘ দশ বছর ত্রিপিটক সাহিত্য এবং ধ্যান-সমাধি অনুশীলন করেন। পরে তিনি ১৯৬৪ সালে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন। সেই থেকে তিনি রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের অধ্যক্ষ হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অধিষ্ঠিত ছিলেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের মাত্র কয়েক বছর পরে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। সেসময় প্রাণভয়ে অনেকে মিয়ানমারে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিলেও সত্যপ্রিয় মহাথের সুযোগ থাকার পরও যাননি। তিনি বিহারেই থেকে যান। মৃত্যুর ঝুঁকি আছে জানার পরও সেই সংকটময় সময়ে এলাকার হিন্দু, মুসলমান এবং বৌদ্ধ, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আশ্রয়প্রার্থীদের তিনি নিজের বিহারে আশ্রয় দেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিহারে আশ্রয় দেন। পাকিস্তানী সেনারা ঠিকই বিহারে গিয়েছিল। পাকবাহিনীর সুঠাম এবং দীর্ঘদেহী সেনা কিভাবে তর্জন-গর্জন করে তাকে ধমকিয়ে ছিলেন, তাদের সাথে তিনি কীভাবে বাকযুদ্ধ করেছিলেন একথা বহুবার আমাদেরকে শুনিয়েছেন। তার সাহস এবং বিচক্ষণতায় শেষ পর্যন্ত পাকসেনারা বিহার এবং বিহারে আশ্রিত কারো ক্ষতি করেননি।

৪.

গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের পরবর্তী সময়ে একে একে ছয়টি সংঘায়ন বা সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সংঘায়ন অনুষ্ঠিত হয় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ‘উনু’ এর সার্বিক সহযোগিতায় রেঙ্গুনের অনতিদূরে বিশ্বশান্তি প্যাগোডার সন্নিকটে ‘মহাপাষাণ গুহায়’। খ্রিস্টিয় ১৯৫৪ সালের ১৭ মে বিকালে শুরু হয়ে তা টানা দুই বছর স্থায়ী থেকে ১৯৫৬ সালের ২৪মে শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে সমাপ্ত হয়। এটা ষষ্ঠ সংগীতি নামে পরিচিত। সেই সংঘায়নে পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের এর গুরু বিনয়াচার্য আর্যবংশ মহাথের ছিলেন বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বাঙ্গালী বৌদ্ধ ভিক্ষু। সেই সুবাদে সত্যপ্রিয় মহাথেরও সেই সংঘায়নে অংশ নেয়ার দুর্লভ সুযোগ লাভ করেন। গুরুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সত্যপ্রিয় মহাথের শীল, বিনয়কে আশ্রিত করে চারিত্রিক দৃঢ়তাকে অবলম্বন করে ক্রমশ এগিয়ে যেতে থাকেন। স্বীয় মেধা, প্রজ্ঞা, জ্ঞান-গরিমা, নীতি-আদর্শ গুণে বাংলাদেশের সমগ্র বৌদ্ধ সমাজে ছড়িয়ে পড়তে তাঁর বেশি সময় লাগেনি। ততদিনে সমগ্র বৌদ্ধ সমাজ জেনে গেছে, শীল-বিনয়ের অভেদ্য বলয়ে ঘেরা এক বিশুদ্ধ ব্রক্ষচারীর নাম সত্যপ্রিয় মহাথের। সমগ্র বৌদ্ধ সমাজ ত্রিপিটক শাস্ত্রে অসাধারণ পান্ডিত্য এবং সুললিতকণ্ঠে জানগর্ভ ধর্মদেশনা দান করে দেশের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে নিরন্তর ছুটে চলা সত্যপ্রিয় মহাথের এর নাম নেন পরম শ্রদ্ধার সাথে।

৫.

১৪ মার্চ ২০০৩ সাল। ত্রিপিটক শাস্ত্রে অসাধারণ পাণ্ডিত্য এবং শাসন-সদ্ধর্মের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তৎকালীন মিয়ানমার সরকার সত্যপ্রিয় মহাথেরকে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় সর্বোচ্চ সম্মানের সাথে ‘অগ্গমহাসদ্ধম্মজ্যোতিকাধজ’ (অগ্রমহাসদ্ধর্মজ্যোতিপতাকা) উপাধি দেন। এটি একটি ধর্মীয় উপাধি হলেও পর পদক গ্রহণ করতে গিয়ে সেদিন তিনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সফরে মূলত নিজ দেশ বাংলাদেশের পতাকাই উড়িয়েছিলেন। সেদিন পৃথিবীর নানান রাষ্ট্র থেকে আসা সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি এবং বাঙালি এই বৌদ্ধ ভিক্ষু। ২০০৬ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সর্বোচ্চ সাংঘিক ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতির দায়িত্ব নেন। সিঙ্গাপুর, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভুটান, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, আমেরিকা, জেনেভাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এসব সম্মেলনের কিছু কিছু সম্মেলনে তিনি সরাসরি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

সত্যপ্রিয় মহাথের লেখালেখিতেও পিছিয়ে ছিলেননা। তিনি বেশ কিছু মূল্যবান ধর্মীয়গ্রন্থ রচনা করেন। তার সর্বশেষ অনুবাদিত গ্রন্থ হল বিনয় পিটকের অন্তর্গত ‘চুল্লবর্গ’। এটি প্রথম তিনিই বাংলাতে অনুবাদ করেন। বইটি ২০০৩ সালে প্রয়াত সাধনানন্দ মহাথের প্রকাশ বনভান্তের উদ্যোগে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার থেকে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয়বার প্রকাশ হয় ২০০৮ সালে। প্রকাশের চার বছরের ব্যবধানে ২০১২ সালে সংঘটিত রামু সহিংসতার আগুনে সমস্ত বই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে থাইওয়ান থেকে বইটির গুরুত্ব বিবেচনায় বইটি পুনর্মুদ্রিত হয়। বইটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৌদ্ধধর্মীয় উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এজন্য গত ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বৌদ্ধধর্মীয় সংগঠন তাকে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেন।

৬.

সত্যপ্রিয় মহাথের দেশবিদেশের সমগ্র বৌদ্ধ সমাজে একটি অতি পরিচিত এবং নন্দিত নাম হলেও তিনি বাংলাদেশের জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে এবং সরকারের শীর্ষ মহলের নজরে আসেন ২০১২ সালে সংঘটিত রামু সহিংসতার পর। এই ঘটনার পর সারাবিশ্ববাসী দেখেছে সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া সত্যপ্রিয় মহাথের কতটা ধৈর্য, মৈত্রী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে আতঙ্কিত এবং ভয়ার্ত ক্ষতিগ্রস্তদের অভয় দিয়েছিলেন। সেই ঘটনা তার ভেতরে দাগ কাটেনি তা নয়, কিন্তু তিনি যে অভিভাবক! তিনি তো দুমড়ে মুচড়ে গেলে চলবেনা। ২০১২ সালের পর থেকে তাকে দফায় দফায় হাসপাতালে নিতে হয়েছে। তখন থেকে গুরুদেব সত্যপ্রিয় মহাথের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বদৌলতে বার বার উন্নত চিকিৎসা লাভ করেছেন। তারা গুরুদেবের খোঁজখবর রাখতেন। রাষ্ট্রের একজন প্রধান নির্বাহী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুরুদেব সত্যপ্রিয় মহাথেরকে সবসময় উপযুক্ত মর্যাদা এবং সম্মান দেখিয়েছেন। এজন্য আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। একইসাথে গুরুদেবের প্রয়াণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি মহামান্য রাষ্ট্রপতিসহ জাতি, ধর্ম, দলমত নির্বিশেষে যেসকল ব্যক্তিবর্গ এবং সংগঠন গুরুদেবের প্রতি শোকশ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন এবং বিবৃতি দিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

এখন আমাদের নৈতিক কর্তব্য হলো তার শবদেহের অন্ত্যেষ্ঠিক্রিয়া যথাযোগ্য এবং সর্বোচ্চ মর্যাদার সাথে সম্পন্ন করা। নিঃসন্দেহে তার অন্ত্যেষ্ঠিক্রিয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের হবে। সবাইকে সম্পৃক্ত করে এবং সকলের সহযোগিতা নিয়েই আমাদের এ গুরুকর্তব্য সম্পাদন করতে হবে। গুরুদেবের একটা আশ্চর্যজনক গুণ ছিল যে তিনি কখনো কূল, অঞ্চল, গুরু-শিষ্য, সম্প্রদায় বিচার করে কাউকে মূল্যায়ন করতেননা। তিনি সবাইকে নিমিষেই আপন করে নিতেন। তিনি আজীবন টাকা-পয়সা স্পর্শ করা থেকে বিরত থেকেছেন। শীল আর বিনয় ছিল তার মূল ভূষণ। এই মহান পুণ্যবিভূতি আজ আমাদের মাঝে নেই এটা আমরা ভাবতেই পারিনা। আজ দেশের সমগ্র বৌদ্ধ সমাজ এটা মর্মে মর্মে উপলব্দি করতে পাচ্ছে যে, একজন সত্যপ্রিয় মহাথের সময়ে চলে যায় বটে কিন্ত এই আসন কখনো পূরণ হবার মত নয়। এটাও সত্য যে জীবিত সত্যপ্রিয় মহাথের’র চেয়ে মৃত সত্যপ্রিয় মহাথের আরো বেশি শক্তিশালী, আরো বেশি শ্রদ্ধাভাজন হয়ে উঠবেন। আমি গুরুদেবের এই অপ্রত্যাশিত প্রস্থানে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি এবং তাঁর নির্বাণ শান্তি কামনা করছি। জয়তু সত্যপ্রিয় মহাথের

লেখকঃ সভাপতি, কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ
চেয়ারম্যান, কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ শিক্ষাবৃত্তি ট্রাস্ট

শেয়ার করুন

  • Tweet
পূর্ববর্তী সংবাদ

কথা রাখলেন এমপি কমলঃ জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে অন্ধ শিশু শয়ন মল্লিকের চিকিৎসা শুরু

পরবর্তী সংবাদ

টেস্টে অধিনায়ক মুমিনুল হক, টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ

পরবর্তী সংবাদ
টেস্টে অধিনায়ক মুমিনুল হক, টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ

টেস্টে অধিনায়ক মুমিনুল হক, টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ টেস্ট জয় বাংলাদেশের

পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ টেস্ট জয় বাংলাদেশের

মে ১৩, ২০২৬
রামু প্রেসক্লাবের কমিটি পূনর্গঠিত

রামু প্রেসক্লাবের কমিটি পূনর্গঠিত

মে ১৩, ২০২৬
রামুতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন: আমি তোমাদেরই লোক

রামুতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন: আমি তোমাদেরই লোক

মে ১৩, ২০২৬
অপরাধীদের অপরাধী হিসেবে দেখবেন: পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী

অপরাধীদের অপরাধী হিসেবে দেখবেন: পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী

মে ১২, ২০২৬
আতাফল খাবেন যে কারণে

আতাফল খাবেন যে কারণে

মে ১২, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

Loading...
«মে ২০২৬»
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
« এপ্রিলজুন »

© ২০২২ আমাদের রামু ডট কম কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

[email protected]

আমরা রাষ্ট্র তথা এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরি। আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ নই কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে আমরা আপসহীন থাকার চেষ্ঠা করি। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যে, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের অপর তিন স্তম্ভ- সংসদ, প্রশাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পর চতুর্থ স্তম্ভ। একটি কার্যকর রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনায় দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • প্রাইভেসি পলিসি
  • ইউনিকোড কনর্ভারটার

প্রযুক্তি সহায়তায় ❤ ডেবস্ওয়্যার

ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
  •  
  • কক্সবাজার জেলা
    • কক্সবাজার সদর
    • উখিয়া
    • কুতুবদিয়া
    • চকরিয়া
    • টেকনাফ
    • পেকুয়া
    • মহেশখালী
  • পার্বত্য চট্রগ্রাম
    • বান্দরবান
    • রাঙ্গামাটি
    • খাগড়াছড়ি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
    • রাজশাহী
    • সিলেট
  • মতামত
    • সম্পাদকীয়
    • গোলটেবিল বৈঠক
    • ধর্মকথা
    • সাক্ষাৎকার
    • তারুণ্যের লেখালেখি
    • ছড়া ও কবিতা
    • কলাম
    • সাধারণের কথা
    • অনলাইন ভোট
  • বিশেষ প্রতিবেদন
    • কীর্তিমান
    • প্রতিভা
    • ঐতিহ্য
    • অবহেলিত
    • পুরাকীর্তি ও প্রত্নতত্ত্ব
    • শেখড়ের সন্ধান
    • প্রতিষ্ঠান
  • রাজনীতি
    • আওয়ামীলীগ
    • বিএনপি
    • জাতীয়পার্টি
    • রাজনৈতিক দল সমূহ
    • ছাত্র রাজনীতি
  • নির্বাচন
    • স্থানীয় সরকার
    • সংসদ
    • ইসি
  • শিল্প-সাহিত্য
    • কবিতা
    • গল্প
    • উপন্যাস
    • আর্ট
    • চিঠি
    • ছড়া
    • প্রবন্ধ/নিবন্ধ
    • সংবাদ
  • বিবিধ
    • প্রধান খবর
    • রামু প্রতিদিন
    • পর্যটন
      • বৌদ্ধ ‍বিহার
      • স্থাপনা
      • প্রাকৃতিক
    • চাকরির খবর
    • শিল্প-সাহিত্য
    • সংস্কৃতি
    • বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি
    • উন্নয়ন
    • সাংস্কৃতিক
    • মানচিত্রে রামু
    • শিক্ষাঙ্গন
    • শিক্ষা
    • রামু তথ্য বাতায়ন
    • সমস্যা ও সম্ভাবনা
    • আমাদের রামু পরিবার
    • অপরাধ
    • আইন-আদালত
    • মন্ত্রী কথন
    • স্বাস্থ্য

© 2026 JNews - Premium WordPress news & magazine theme by Jegtheme.