অনলাইন ডেস্কঃ
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।

বুধবার সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, “বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারীকর্মীদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার ১ শতাংশেরও কম। প্রবাসে কর্মরত এসব নারীদের মধ্যে গৃহকর্মীরাই বেশি নির্যাতনের শিকার হন।”
বৈঠকের পরে কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ছয় লাখের বেশি নারী কর্মী বিদেশে আছেন। এরমধ্যে নির্যাতনের হার এক শতাংশেরও কম।
সেই হোসনা ফিরছেন সৌদি আরব থেকে
“তবে আমরা বলেছি, সংখ্যায় যেটা-ই হোক নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হলে পররাষ্ট্র বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে। নির্যাতনকারীদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।”
মন্ত্রণালয়ের উদ্বৃতি দিয়ে ফারুক খান বলেন, “অনেক নারীকর্মী বিদেশে ভালো আছেন। তারা নিজেরা দেশে ফিরে আসার পর আবারও যাচ্ছেন। তাদের আত্মীয়- স্বজনদেরও নিয়ে যাচ্ছেন।”
কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো শুরুর পর থেকে সেদেশে গৃহকর্তার হাতে নানা ধরনের নির্যাতনের খবর আসতে থাকে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না।
এ বছর জানুয়ারি থেকে অগাস্ট পর্যন্ত আট মাসে ৮৫০ জন নারী দেশে ফিরে আসার পর তাদের মুখে সেখানে যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের নির্যাতনের খবর গণমাধ্যমে আসার পর বিভিন্ন নারী সংগঠন সরব হয়।
রক্ষণশীল দেশটিতে নারী কর্মী না পাঠানোর দাবি জোরেশোরে ওঠার পর সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আলোচনায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সৌদি আরবে আর কোনো নারী গৃহকর্মী না পাঠানোর দাবি তোলেন।
সৌদি আরব থেকে ফিরলেন সুমি
তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির মঙ্গলবারের বৈঠকে সৌদিতে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ না করার পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তুলনামূলকভাবে পুরুষ কর্মীদের থেকে নারীকর্মীরা বেশি রেমিটেন্স পাঠায়। পুরুষরা তাদের আয়ের ৬০ শতাংশ রেমিটেন্স পাঠায়, সেখানে নারীরা পাঠান ৯০ শতাংশ।”
নিয়ম অনুযায়ী ২৫ বছরের কম এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের বিদেশে না পাঠানোর কথা রয়েছে। কিন্তু কখনও ১৪ বছরের শিশু, আবার কখনও ৬৫ বছর বয়সীদের পাঠানো হয়েছে বলে কমিটিকে অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে অনিয়মের জড়িত সংস্থাগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বিদেশে প্রশিক্ষণগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বৈঠক থেকে।
ফারুক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, নাহিম রাজ্জাক ও নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) অংশ নেন।
সূত্রঃ বিডিনিউজ





