অনলাইন ডেস্কঃ
ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সারাদেশের অধস্তন আদালত থেকে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ১১৫ জন আসামির জামিন হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে টানা দেড় মাস দেশের সব আদালত বন্ধ থাকার পর গত ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল আদালত শুরু হয়।
সেই থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২০ কার্যদিবসে অধস্তন ভার্চুয়াল আদালতে ৬০ হাজার ৪১৯টি জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়েছে।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের দেওয়া তথ্য মতে, ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ১১ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে সারা দেশের অধস্তন আদালতে ৩৩ হাজার ২৮৭টি জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়। জামিন পান ২০ হাজার ৯৩৮ জন আসামি।
আর ৩১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসে ১৪ হাজার ৩৪০টি জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি করে ৬ হাজার ৫৪২ জন আসমিকে জামিন দেওয়া হয়।
সাইফুর রহমান জানান, এরপর ৭ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসে ১২ হাজার ৭৬২টি জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়েছে। আর এতে জামিন পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন আসমি।
# ২০ কার্যদিবসে ৬০ হাজার ৪১৯টি জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি,
# ৩৩ হাজার ১১৫ জন আসামির জামিন।
# ২০ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৮৯ শিশুর জামিন হয়েছে। ৪৬০ জন শিশুকে তাদের অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৯ জন পুনর্বাসন কেন্দ্রে আছে।
এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের অধস্তন আদালত থেকে এক হাজার ১৮৪, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে এক হাজার ১২১, রংপুর বিভাগ থেকে ৪৩৫, বরিশাল বিভাগ থেকে ২৪০, রাজশাহী বিভাগ থেকে ৭৮৪, খুলনা বিভাগ থেকে ৮৩৪, সিলেট বিভাগ থেকে ৫০০ ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধস্তন আদালত থেকে ১০১ জন আসামি জামিন পেয়েছেন।
সাইফুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত ৭ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসে দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২৬০টি জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি করে ১০১ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিশু আদালতে ১১২টি জামিন আবেদনের শুনানি করে ৫৬ শিশুকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
“মোট ২০ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৮৯ শিশুর জামিন হয়েছে। তার মধ্যে ৪৬০ শিশুকে তাদের অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৯ জন পুনর্বাসন কেন্দ্রে আছে।”
দেশের তিনটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৮৮০ জন শিশু রয়েছে বলে জানান হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সাধারণ ছুটির মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালতের বিচারকাজ চালানোর জন্য গত ৯ মে অধ্যাদেশ জারির পর ১০ মে ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ জারি করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
ওই দিনই সুপ্রিম কোর্ট থেকে তিনটি আলাদা ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনার’ পাশাপাশি ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
এরপর ১১ মে থেকে শুরু হয় দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম ভার্চুয়াল আদালতের যাত্রা।
সূত্রঃ বিডিনিউজ





