ঘর ও আয়না
শূন্যের মাঝে যারা ঘর বানায়;
যেখানে নিজেরে দেখার জন্য,
সাজার জন্য আয়না রাখে
তাদের কথা জানানোর জন্য
এই প্রসঙ্গের অবতারণা ।
আয়নায় মুখ দেখে, চোখ দেখে, মন বুঝে
আর বিম্বিত প্রতিবিম্ব নিয়ে খেলা করতে করতে
ফিরিয়ে দেয় পূর্বেকার দৃশ্যাবলি।
আয়নায় নিজের মুখের মাঝে ভেসে উঠে পূর্বের আদল
কিংবা মিলে যায় পরিচিত মানুষের কায়া ও মায়া।
কখনো রঙিন, কখনো সাদা-কালো সমান্তরাল রেখা।
সবাই ঘর খুঁজি, বুঝি-সব ঘর নিজের নয়,
নিজের করে নেয় না,
নিজের মতো হয় না।
ঘরের মধ্যে ঘর, বহু ঘর,
ভগ্নাংশ ও দশমিক পর্যন্ত ঘরের সীমানা;
বাসিন্দারা সন্ধ্যার পর পর শুরু করে
নিজস্ব সংলাপসমৃদ্ধ কথোপকথন ।
আয়নায় মুখ দেখলেই চোখে ভাসে ভরা ঘর;
সময়ের যৌথবাস ।
*************************************************************************************************
অনিবার্য কারণবশত
স্বীকার্য বা অনিবার্য কারণবশত মেনে নিতে হয়।
নির্ধারিত পটভূমি দ্রুত সমাপ্তির পথে….
রেশ বেশ জমে আছে ঝাঁকানো শীতের মতো
একগল্প শুরু হতে অন্যগল্প পাঠ…
বাসের ভেঁপুরা বড় বেশি জেদি…রাগী শুয়োরের মতো!
ঘুম ভাঙে অন্ধ ডাকে
কর্ণকুহরে কূজন নেই…
একদা নিরলে নীরবে আমিও শুনেছি লালনের গান
যৌথবাস , এক চান্দ্রমাস
ব-দ্বীপে ছিলাম সুখে, যৌথ অঙ্গীকার
কুহু ডাকে স্বাগতম লাল জবা দিন
বৃতি-দলে লাগা রাত জোছনা খুঁজে
একান্ত স্বপন বুনি গোপন সংসারে…
কেউ কেউ ভেবে নেয়; প্রকৃত সঠিক
অথচ প্রমাণ নেই দু’জন নীরব
যারা সাক্ষী তারা আজ মেঘের কূয়ায়
ডুব দেয়, মুখ দেখে আয়নায়
দেখে না আগুন…
কিছু বাকি রয়ে যায় যতটা জোগাও
কিছু কিছু ভুলে যাই, মনে দাগ নেই
দিবানিশি হৃদিজলে ভেসেছি দু’জন
আমার আনন্দবেলা এক চান্দ্রমাস
আমাদের যৌথবাস স্বরলিপি সুর
আমাদের মুখরতা জমায় দুপুর।
****************************************
লেখক: একাধারে কবি, সাহিত্যিক এবং চিকিৎসক।







