তৌহিদুল ইসলাম রবিন:
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই
কেহ অবনী ‘পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে
মোরা পরের তরে’।
কামিনী রায়ের লেখার মতো আসলেই কি
আমরা প্রত্যেকে পরের তরে? না, আসলে
মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে সৃষ্টির সেরা
মানুষের মন থেকে; নিদারুণ নিষ্ঠুরতায়!
এখন কেউ শুনেও শুনতে পায় না কান্নার
আহাজারি।
সবাই যেনো নীরব দর্শকের মতো
দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার
নেই।
স্রষ্টার মহাদান মানুষের কাছে এখন
মানুষেরই কোনো মূল্য নেই।
অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, হানাহানি
এমনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে,
যেখানে জ্ঞানী-গুণীরা আজ অবহেলিত।
বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ সত্য আর
মানবতার গল্প।
পরকীয়ার কারণে সন্তানদের খুন করাটা
আমাদের সমাজের এখন সাধারণ ঘটনা।
ভ্রুণ হত্যার মতো জঘন্য কাজ করছে
মনুষ্যত্বহীন মানুষগুলো। কিন্তু একটি
হিংস্র বাঘিনী যতই ক্ষুধার্ত হোক না
কেনো, কখনোই নিজের শাবকদেরকে
হত্যা করে না।
জুনায়েদের মতো নেশাগ্রস্ত রাস্তায়
দাঁড়িয়ে মারধর করছে তার বন্ধুকে। পাশ
দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে বিবেকহীন মানুষ।
তনুরা হচ্ছে ধর্ষণের শিকার। চুরির
অভিযোগে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে
পিটিয়ে হত্যা করা হয়। জনগণের বন্ধু
হিসেবে আখ্যায়িত পুলিশই নির্যাতন
করছে ছোট্ট অবুঝ শিশুকে। আগুন দিয়ে
মানুষ পোড়ানই যেনো এখনকার
রাজনীতি।
ধর্ষণ, হত্যা, মানুষ নির্যাতনে নিজেকে
না জড়িয়ে ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, বস্ত্রহীন,
বাসস্থানহীন মানুষগুলোকে ভালোবাসে
তাদের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্য, বস্ত্র,
বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা দিয়ে আসুন
আমরা নিজেদের মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে
তুলি।
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের
জন্য। যেখানে মানবতাই হবে আমাদের
সব থেকে ধর্ম।






