পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও থাকবে, ঝগড়াঝাঁটিও চলবে।’রবিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।খবর বাংলাট্রিবিউনের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি। পরবর্তী সময়ে ৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তান।’ তিনি বলেন, ‘যেকোনও দু’টি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে। মতভিন্নতা থাকতে পারে। কাজেই আমি মনে করি, আমাদের দেশের মানুষের এটাই চিন্তা করা উচিত, আমরা তো মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। কাজেই যারা পরাজিতরা অনেক কিছু বলতে পারে। তারা কী বলল, না বলল, তাতে আমাদের কী আসে যায়? আমাদের যে কাজ, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করা, আমরা তো তা করে যাচ্ছি। এ বিচারের কারণে তাদের মনে ব্যথা লাগবেই। কারণ এরা তাদেরই পেয়ারে বান্দা। তারা চলে গেলে পাকিস্তান একটু কাঁদবে না? কাঁদবে।’
বিএনপি-জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কাঁদে তো আরও অনেকেই! আপনারা দেখেছেন সেটা। ক্ষমতায় যারা ছিল তারাই তো কেঁদেছে। যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন, বিচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তাদের এদেশে রাজনীতি করার অধিকার আছে কিনা, তাদের সঙ্গে আপনারা সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করবেন কিনা, তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা আগে সিদ্ধান্ত নেন।’
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থেকেই যায়। তারা যখন যা বলছে, আমরা সেটার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটুকুই।’
সার্ক সম্মেলনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্ক সম্মেলনের ব্যাপারে যেহেতু পাকিস্তান আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছে, তাই আমরা যাব না সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি। পরে আরও তিন দেশ যাবে না জানিয়ে দিয়েছে। সাত দেশের মধ্যে চার দেশই যদি না যায়, তিনটা থাকলে আর কী সম্মেলন হবে? ফলে বাধ্য হয় সম্মেলন স্থগিত করতে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তান যা বলেছে, সেটা তাদের মতামত তারা দিচ্ছে। এ বিচার শুরু হয়েছে স্বাধীনতার পরপর। কিন্তু জিয়াউর রহমান যখন নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলেন অবৈধভাবে, তখন ক্ষমতায় এসে এ বিচার বন্ধ করে দেন। এবং যারা বন্দী ছিল, প্রায় ১১ হাজার বন্দি তাদের ছেড়ে দেন। ২২ হাজার মামলা হয়েছিল, মার্শ ল’অডিনেন্স জারি করে সব মামলা প্রত্যাহার করে নেন। শুধু তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যারা পাকিস্তানের দোসর ছিল, তাদের মধ্যে একজনকে প্রধানমন্ত্রী করেন (শাহ আজিজ) জিয়াউর রহমান। যিনি একজন প্রতিনিধি হিসাবে জাতিসংঘ পর্যন্ত গিয়েছিলেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজাকার বাহিনীর প্রধান, আলবদর বাহিনীর প্রধানদের কিন্তু খালেদা জিয়া মন্ত্রী বানান। জিয়াউর রহমানও এ রকম রাজাকারকে মন্ত্রী বানিয়েছেন।’






