রামুতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পুরাতন জাদীতে ধাতু ও মুকুট স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে মহাবোধি ধাতু চৈত্য অভিষেক অনুষ্ঠান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ভোর ৫ টায় বুদ্ধ পূজা ও ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদান, সকাল ৮ টায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করে তিন দিনব্যাপী মহাবোধি ধাতু চৈত্য ‘স্বর্ণজাদী’ অভিষেক অনুষ্ঠান, শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদযাপন এবং জাতীয় বৌদ্ধ মহাসম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। আগামীকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) নবনির্মিত জাদীতে অরহৎ ভিক্ষুর ধাতু ও মুকুট স্থাপন এবং ২৪ টি দণ্ডায়মান বুদ্ধ প্রতিবিম্বে ধাতু স্থাপনের মাধ্যমে শেষ হবে।
শুক্রবার সকালে জাতীয় বৌদ্ধ মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উখিয়া সংঘরাজ ভিক্ষু সমিতির সভাপতি ধর্মপাল মহাথের। সভাপতিত্ব করেন নাইক্ষ্যংছড়ি ধুংরী হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উঃ আছবা মহাথের। এ ধর্ম সভায় উখিয়া কোর্টবাজার শাসনতীর্থ সুদর্শন বিহারের শাসনপ্রিয় মহাথের উদ্বোধক, পানেরছড়া বৌদ্ধ বিহারের উঃ সুচরিতা মহাথের আশীর্বাদক, রামু উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের পরিচালক করুণাশ্রী মহাথের প্রধান ধর্মদেশক, মহেশখালী প্রজ্ঞাবিমুক্তি শীলরক্ষিত সার্বজনীন বনবিহারের ভিক্ষু প্রজ্ঞারত্ন মহাথের প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন।
বৌদ্ধের ধর্মীয় এ অনুষ্ঠান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়। এ ধর্মীয় সম্মেলনে ধর্মদেশনা করেন, রামু লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু উ. ঞানাতারো মহাথের, রামু হীরার দ্বীপ শ্রদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু ইন্দ্রবংশ মহাথের, রামু সত্যপ্রিয় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শীলরত্ন মহাথের, রাঙ্গুনিয়া সংঘরাজ ভিক্ষু সমিতি সাধারণ সম্পাদক উ. সুবর্ণ মহাস্থবির, রামু শ্রীকুল মৈত্রী বিহারের ভিক্ষু মৈত্রীজিৎ মহাথের, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের আবাসিক প্রধান শরণপ্রিয় মহাথের, চন্দনাইশের বৌদ্ধ ভিক্ষু সুমঙ্গল মহাথের, মহেশখালী কেন্দ্রীয় সৈকত বিহারের ভিক্ষু সুমনপ্রিয় মহাথের, উখিয়া রেজুরকুল পুরাতন সদ্ধর্ম বিকাশ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জ্যোতিধর্ম মহাথের, হাজারীকুল বোধিরত্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ সৌরবোধি থের, রামু ফারিকুল বিবেকারাম বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু প্রজ্ঞাতিলক থের, কক্সবাজারের প্রজ্ঞাসেন থের, প্রজ্ঞাপাল থের, লামা বান্দরবানের ধর্মমিত্র থের, উখিয়া রেজুরকুল পুরাতন সদ্ধর্ম বৌদ্ধ বিহারের জ্যোতিধর্ম থের, রেজুরকুল ধর্মাশোক ধাতু চৈত্যের কর্মেশ্বর থের, পাইন্যাশিয়া শান্তিনিকেতন বৌদ্ধ বিহারের প্রিয়তিষ্য থের, উখিয়া চৌধুরী পাড়ার প্রজ্ঞাশাক্য থের, টেকনাফ হরিখোলা কেন্দ্রীয় জেতবন বৌদ্ধ বিহারের সুমনাবোধি থের, পূর্ব ঝিলংজা বুদ্ধ জ্যোতি বৌদ্ধ বিহারের জ্যোতিঅগ্র থের, রাজারকুল সদ্ধর্মদ্বয় বৌদ্ধ বিহারের প্রজ্ঞাবিনয় থের, খরুলিয়া ধর্মজ্যোতি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ করুণাপ্রিয় থের, চন্দনাইশ পূর্ব জোয়ারা শ্রদ্ধানন্দ বিহারের অধ্যক্ষ বোধিপ্রিয় থের, ঢাকা মেরুল বাড্ডার সরুপানন্দ থের, উখিয়া শৈলরঢেবা চন্দ্রোদয় বৌদ্ধ বিহারের আবাসিক প্রধান জ্যোতিকুশল ভিক্ষু, উখিয়া কেন্দ্রীয় আনন্দ ভবন বৌদ্ধ বিহারের ভদ্দীয় থের, উখিয়া মরিচ্যার শীলানন্দ ভিক্ষু, বোধিপ্রিয় থের মরিচ্যা, থাইল্যান্ডের তিলোকাপ্রিয় ভিক্ষু। অনুষ্ঠানে মঙ্গলাচরণ করেন, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের ভিক্ষু ধর্মপাল থের।

এই মহতী ধর্মীয় কর্মযজ্ঞে থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, কলকাতা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ভিক্ষুসংঘের সদ্ধর্ম দেশনা করেন। শুক্রবার দুপুর ৩ টায় এক হাজার বুদ্ধ প্রতিবিম্ব কীর্তন সহকারে সারিবদ্ধভাবে সুসজ্জিত আসনে আনয়ন এবং রাত ৮ টায় ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
মহাবোধি ধাতু চৈত্য অভিষেক ও শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের অধ্যক্ষ শীলপ্রিয় মহাথের জানান, রম্যভূমি রামু বাংলাদেশের বৌদ্ধদের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থান। হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত বৌদ্ধ জনপদ হলো রামু। এ জনপদে ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়েছে রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার। এই বিহারে বুদ্ধের পবিত্র ধাতু নিয়ে নবনির্মিত মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য (স্বর্ণজাদী) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য (স্বর্ণজাদী) এর অভিষেক অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে।







