ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখাতে বাংলা ভাষাকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। ভাষা শহিদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। অর্জন করতে হবে আমাদের ভাষিক শুদ্ধতা। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের চেতনা বহন করে। একুশের চেতনায় আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচিতি চির অম্লান থাকবে। পৃথিবীতে আমরাই প্রথম জাতি যারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ‘বাংলা ভাষা আমার আবহমান আশ্রয়’ মহান একুশের কবিতা পাঠ ও কথামালা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।
রামুতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা পরিষদ শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এবং ‘শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমী’ রামু উপকেন্দ্রের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বাচিকশিল্পী জসীম উদ্দিন বকুল এ অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তৃতা করেন। শুভেচ্ছা বক্তৃতা দেন, রামুতে আবৃত্তি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রজন্ম ৯৫’র সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আমিন মোরশেদ।

রামু পাবলিক লাইব্রেরীর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও হাজী এম এ কালাম সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, লেখক ও গবেষক আখতারুল আলম, সংগীত ভবন কক্সবাজারের পরিচালক-অধ্যক্ষ বিভাস সেনগুপ্ত জিগমী, রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ, রামু ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদীন, মধুপোক প্রকাশক লেখক-সাংবাদিক এ কে এম আতিকুজ্জামান রাসেল, মাছরাঙা টিভি’র কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সুনীল বড়ুয়া, শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির সহকারি পরিচালক জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক মিনহাজ চৌধুরী, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজনীন সুলতানা মেরি, ছড়ুয়া সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলন। বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। তার প্রতিবাদে ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই বলে ছাত্ররা রাজপথে আন্দোলনে নামে, ভঙ্গ করে ১৪৪ ধারা। ছাত্রদের মিছিলের উপর গুলি করে পাকিস্তানি বাহিনী। শহীদ হয় সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ আরো অনেকে।

শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির প্রশিক্ষণ সহযোগী সানজিদুল ইসলাম মাহিন, জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী উম্মে শাইলা ইসলাম রাহি, জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী আবিদ মোহাম্মদ মাহাদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নার্সারি-কেজি, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি চারটি বিভাগের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী কবিতা পাঠ করে। এই বিশেষ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের ভাষা-চেতনা, আবৃত্তি দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক বোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অতিথি ও অভিভাবকরা।
মহান একুশের এ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দসহ উপস্থিত ছিলেন, রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম খোরশেদুল ইসলাম, বাঁকখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী, রামু ল্যবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন, রামু সরকারি কলেজের প্রভাষক দিবস বৈদ্য, রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি নুরুল হক চৌধুরী, ইনস্টিটিউট অব মিউজিক রামু’র নৃত্য পরিচালক জয়শ্রী বড়ুয়া, রামু প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ, থিয়েটার রামু’র সাধারণ সম্পাদক দিপক বড়ুয়া, তারেক আজিজ প্রমুখ।







