এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে আয়োজনে শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ অংশীজনরা জানুয়ারিতে এসএসসি এবং জুনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় অংশীজনরা এমন প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।
সভা শেষে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সভায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও এটাকে (বছরের শুরুতে এসএসসি ও মাঝামাঝিতে এইচএসসি) মোটামুটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বলা চলে। আমরা তাদের এই মতামতকে ধরেই এগোচ্ছি।”
বর্তমানে এপ্রিলে এসএসসি ও সমমান এবং জুলাইতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজিত হচ্ছে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে চায়। পরীক্ষা কবে আয়োজন করা হবে এবং কীভাবে সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় আনা যায়, সে বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
“আমরা বিবেচনা করছি ২০২৭ সালেই ডিসেম্বরে (এসএসসি ও সমমান) পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কি না, নাকি ২০২৮ সালে গিয়ে পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
সভায় আসা মতামতের বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক কামাল বলেন, সভায় শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় না করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়। অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের মতামত হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আর এইসএসসি পরীক্ষা জুনের প্রথম সপ্তাহে নিলে কোনো সমস্যা থাকবে না।
এটা ধরেই পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ভাবনার কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের সময় বাঁচাতে ঠিক ১০ বছর সময় নিয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এবং ১২ বছর সময় নিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা কথা একাধিকবার তুলে ধরেন।
দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান শেষ করে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে এ বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নিতে বুধবার এ সভার আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সভায় স্বশরীরে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও অভিভাবকরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হঠাৎ করে চলতি বছরের পাবলিক পরীক্ষার (এসএসসি ও এইচএসসি) এগিয়ে আনা হলে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হবে এবং প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সভায় অংশীজনরা মত দিয়েছেন।
“সভায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা বিশেষভাবে ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের বিরোধিতা করেন। শিক্ষাবর্ষের বাস্তবতা বিবেচনায় এখনই ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না বলে মত দেন শিক্ষক-অভিভাবকরা। তবে ধাপে ধাপে সময় এগিয়ে এনে ভবিষ্যতে ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তারা।”
ওই কর্মকর্তা বলেন, সভায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমাজন মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে রোজার আগেই শেষ করার কথা বলেন।
বিডিনিউজ






