রামুতে বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মানবিক সংগঠন ‘মৈত্রী-০২’। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও রাজারকুল ইউনিয়নে, দুপুরে চাকমার কুল ইউনিয়নে এবং বিকালে ফতেখাঁরকুল এবং কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে রামুর মৈত্রী-০২। একদিনে রামু উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের পাঁচশত অসহায় দুঃস্থ মানুষের হাতে ত্রাণ সমাগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়ে বলে জানান মৈত্রী ০২’র সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলম। প্রতিজন মানুষকে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি মশুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পিঁয়াজ, ৫০০ গ্রাম মুড়ি, ওরস্যালাইন সহ প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন ঔষধ দেয়া হয়েছে।
বুধবার বিকালে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লামার পাড়া এলাকায় মানবিক সংগঠন মৈত্রী ০২’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ত্রাণ সমাগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, সমাজসেবা কার্যালয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহীন নেওয়াজ। রামু মৈত্রী-০২’র সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলম এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, মানবিক সংগঠন ‘মৈত্রী ০২’ মনের তাগিদে অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুহুর্তে অসহায় দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মহত এবং দৃষ্টান্তমুলক কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ সংগঠন সুবিধাবঞ্চিত, বন্যা কবলিত মানুষের কাছে গিয়ে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। যেটা বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম একটা টার্গেট। সরকার সব ধরণের সহযোগিতা গণমানুষকে দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে সহযোগিতা করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে উঠে না। যার কারণে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মানবিক সংগঠন গুলোকে নিবন্ধন দেয়া হয়। তারা যেন সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে গণমানুষকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে ৭২ হাজার সংগঠন রয়েছে। আমি জেনেছি কক্সবাজার জেলাতেও ২৮০টির মতো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত সংগঠন রয়েছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সময়ে এত সব সংগঠনের মধ্যে, হাতে গোনা কয়েকটি সংগঠন মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যে উদ্দেশ্যে এ ধরণের সংগঠন গুলোকে জাগিয়ে তুলছে, নিবন্ধন দিচ্ছে, অনুপ্রাণিত করছে এবং বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনা দিয়ে মানবিক সংগঠনে পরিণত করছে। যাতে মানবিক সংগঠনগুলো গণমানুষের পাশে থাকে। এই উদ্দেশ্যের পুরোটাই বহন করছে ‘মৈত্রী ০২’। এ সংগঠনের কর্মকান্ডে আমি আনন্দিত, উদ্বেলিত। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মৈত্রী ০২ এর মানবিক কর্মকান্ড তুলে ধরবেন বলে দৃঢ়চিত্তে ঘোষনা দেন তিনি।

মৈত্রী ০২’র সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন লাবলু’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আবদুল আউয়াল, রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও খিজারীয়ান ৮৬’র সভাপতি খালেদ শহীদ, রামু প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ছালামত উল্লাহ, মৈত্রী-০২’র সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিদুয়ান মো: ফজলে রাব্বি।
মৈত্রী-০২’র সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মৈত্রী ০২ রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০২ এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মানবিক একটি সংগঠন। মনের তাগিদে নিজেদের উদ্যোগে তহবিল গঠন করে আমরা ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ২০০৮ সালে আমরা মৈত্রী ০২ গঠন করি। বিভিন্ন সময়ে ত্রাণ কার্যক্রম সহ বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ, শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, বইখাতা, টিউশন ফিসহ শিক্ষা উপকরণ এবং দুঃস্থদের শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। ২০১২ সালে স্মরণকালের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যাপ্লাবিত এলাকার পানিবন্দি মানুষের মাঝে রান্নাকরা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমরা প্রাক্তন শিক্ষার্থী বন্ধুরা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ বছর ধরে মানবিক কাজগুলো করে আসছি। বন্ধুত্বের অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে আমাদের মানবিক উদ্যোগ প্রতিনিয়ত চলবে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোকেও বন্যাদুর্গত মানুষকে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।







