প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
কক্সাজারের রামু উপজেলায় হাতির আক্রমণের শিকার সাগরিকা বড়ুয়া মৃত্যুর সাথে লড়ে চলেছেন।
তিনি রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজারকুল গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
গত ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে সাগরিকা বড়ুয়া অন্যদের সথে পার্শ্ববর্তী সেনাক্যাম্প সংলগ্ন জঙ্গলে কাঠ কাটতে যান। কাঠ সংগ্রহের পর তিনি একপর্যায়ে একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য বসেন। তখনি ঘটে যায় এক মারাতœক দুর্ঘটনা। হঠাৎ এক হাতি পেছন থেকে এসে তাকে ধরে পেলে। হাতিটি তাকে শুঁড় দিয়ে মাটিতে ঘষতে ঘষতে এক পর্যায়ে ছুঁড়ে মারে। এতে তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাতœক জখম হয় এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকেন।
এদিকে তাকে আক্রমণ করার পর হাতি জোরে গর্জন করতে থাকলে দলচ্যুত সাগরিকা বড়ুয়ার সাথে যাওয়া অন্যদের সন্দেহ হয়। তারা দেখেন দলে সাগরিকা বড়ুয়া নেই। পরে খোঁজাখুজির পর ঘটনাস্থল থেকে কিছু দুরে সাগরিকা বড়ুয়াকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়।
সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে প্রথমে রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গেলে একটা পরীক্ষা দিয়ে সেখান থেকেও তাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ভাগ্যের চরম বিড়ম্বনা। দরিদ্র সাগরিকা বড়ুয়ার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় তারা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কোন চিকিৎসা দিতে পারেননি।
পরে তাকে কম খরচে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কক্সবাজারের এক প্রাইভেট ক্লিনিক জেনারেল হসপিটালে ভর্তি করা হয়। তারা তখনও জানতেন না যে সেখানে ব্যয়ভার আরো অনেক বেশি।
সাগরিকা বড়ুয়ার স্বামী বাদশা বড়ুয়া জানান, জেনারেল হসপিটালে ভর্তি করার পর তাকে পেটের জখমের উপর একটা ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে দুইটি পরীক্ষা দেওয়া হয়। এ প্রতিবেদক জেনারেল হসপিটালে গেলে সাগরিকা বড়ুয়াকে শরীরে স্যালাইন পুশ করা অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তিনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন।
পরে সেখানে চিকিৎসার বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পেরে তাকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা মালুমঘাটস্থ মেমোরিয়াল খ্রীষ্টান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সময় জেনারেল হসপিটাল থেকে চার হাজার টাকারও বেশি একটি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সাগরিকা বড়ুয়ার ছেলে রাসু বড়ুয়া বলেন, আমরা কেবল তখনই বুঝতে পারি যে, সেখানে মাকে চিকিৎসা করাতে গেলে আমাদের থাকার ভিটেখানিও বিক্রি করতে হত মনে হয়।
এদিকে অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে তাকে মেমোরিয়াল খ্রীষ্টান হাসপাতালে ঢুকানোর অনুমতি পাওয়া গেল। রোগীকে বেডেও তোলা হল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিলেন ৩০-৪০ হাজার টাকা লাগতে পারে। হাসপাতালের সব শর্ত মেনে নেওয়া হল। কিন্তু সাগরিকার দুর্ভাগ্য যেন কাটে না। ঘন্টা খানেকপর জানানো হল- ডাক্তার ভীষণ ক্লান্ত। তাই তিনি রোগী দেখতে পারবেননা। শক্ত প্রাণের সাগরিকা তখনো না মরে বেঁচে আছেন। তার সৌভাগ্য কেবল এটাই।
রাত তখন ১২টা। নতুন আরেকটি এম্বুল্যান্স ভাড়া করে তাকে নিয়ে রওনা দেওয়া হয় চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে। দিবাগত রাত তিনটার পরে সাগরিকা বড়ুয়াকে বহনকারী এই এম্বুল্যান্সটি থামে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গনে। এই যাত্রায় সাগরিকা বেঁচে যান।
কিন্তু তার পরিবার জানান, অর্থের অভাবে সাগরিকা বড়ুয়াকে প্রয়োজনীয় এবং সুচিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। বর্তমান তিনি চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাজাহান আলি আমাদের রামু কে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমরা বসবো। আলোচনা করে তার চিকিৎসা সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’








