দর্পণ বড়ুয়া:
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে কক্সবাজারের রামু খিজারী স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে ৭ দিনব্যাপী বিজয় মেলা শুরু হয়েছে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়ানোর মধ্যদিয়ে বিজয় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। তিনি বলেন জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে জাগাতে হবে। তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করে সামনে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব আমাদের।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান। সভাপতিত্ব করেন উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজয় মেলা কমিটির মহাসচিব রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম।
বিজয় মেলা মঞ্চে সংবর্ধিত করা হয় রামুর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তাঁদেরকে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে সালাম ও অভিনন্দন জানায় রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কাউট দল।
এদিকে সাত দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাকে সামনে রেখে মেলা প্রাঙ্গনকে নবসাজে সাজোনো হয়েছে। রামু খিজারী স্টেডিয়াম, রামু চৌমুহনী- বাইপাস চত্বর পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
মেলার সীমানা প্রাচীরে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ম্যূরালে রামুর চারুকলা শিল্পীরা বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয়দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলনের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় গাঁথা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ চমৎকার ভাবে অলংকৃত করেছেন।
মেলায় বিভিন্ন রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র কুঠির শিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ি। পাশাপাশি তারুণ্যকে বইমুখী করতে বসানো হয়েছে বইয়ের স্টল। স্টলগুলোকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ছোটদের গল্প, কবিতার বই ও ছাত্র রাজীতির ইতিহাস নির্ভর বিভিন্ন বই পাওয়া যাচ্ছে।
বিজয় মঞ্চে প্রতিদিন রয়েছে গান, কবিতা আবৃত্তি, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও নাট্যানুষ্ঠান।






