খালেদ শহীদ:
রামুতে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বীর বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার প্রতিশোধ’ প্রতিপাদ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাত দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার উদ্বোধন ঘোষনা করেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়ানোর মধ্যদিয়ে রামুতে সাত দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন, মুক্তিযোদ্ধা সহ অতিথিরা।
এ সময় বিজয় মঞ্চে সাংস্কৃতিক উপ-পরিষদের শিল্পীরা জাতীয় ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ ও মেলা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর পূর্ব পাকিস্তানের নির্যাতিত জনগন মুক্তি সংগ্রামের প্রস্তুতি নেয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের ৭ মার্চ রোসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষনে মুক্তি সংগ্রামের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাংলার নারী-পুরুষ সকলে। নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ষোলই ডিসেম্বর এ দেশ বিজয় অর্জন করে।
অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। আজকের প্রজন্মকে জানাতে হবে স্বাধীনতার ইতিহাস, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের কথা। আজকের প্রজন্মরাই আগামীতে এদেশের নেতৃত্ব দিবেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আজকের প্রজন্মকে জাগাতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
রামু মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদ চেয়ারম্যান কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, সহ-সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী, যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ, রামু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমন্ডার মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, আমাদের অবস্থান জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে রামুর বিজয় মেলার আয়োজন। রামুতে সাত দিন্যবাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় অংশ নেয়ার জন্য তিনি সর্ব সাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
স্মৃতিচারণ সভার শুরুতে স্বাগত বক্তৃতা করেন, রামু মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদ মহাসচিব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদক মুুসরাত জাহান মুন্নী, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য শামশুল আলম, নুরুল হক, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সুলতানুল আলম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা, রামু ব্রাদার্স ইউনিয়ন সভাপতি মো. নবু আলম প্রমুখ।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতার ইতিহাস আজ বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করার ষড়যন্ত্র চলছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে একাত্তরের মতো আবারও রুখে দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রজন্মকে জাগাতে হবে। বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বাঙালির ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। দেশে চট্টগ্রামের পর রামুতে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আয়োজন। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করতে বেশী করে বিজয় মেলা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ সভার ব্যবস্থা করতে হবে।
আজ শুক্রবার ছিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিজয়মেলার প্রথম দিন। তবে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সুপরিসর মাঠে এক সপ্তাহ আগে থেকে রকমারি পণ্যের পসরা সাজানোর প্রস্তুতি শুরু হয় স্টলে স্টলে। মেলায় বিভিন্ন পন্যের শতাধিক ষ্টল স্থান পেয়েছে। প্রতিদিন বিজয় মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, গণসংগীতের আসর, কবিতা পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে বলে জানান, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক বশিরুল ইসলাম।
৩০ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এ বিজয় মেলা চলবে বলেও তিনি জানান। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ও অতিথিদের সালাম জানিয়ে শারীরিক কসরত প্রদর্শন করে, রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের স্কাউট দল।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মঞ্চে রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন, সোমা বড়ুয়া, অভিপ্সা বড়ুয়া মেঘলা, দীপক বড়ুয়া, তামিম ছিদ্দীক, রোকসানা আক্তার লিপু। জয়শ্রী বড়ুয়া’র পরিচালানায় নৃত্যানুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত একক সংগীতানুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন, মেহেরিন রাহ্বাত ইপসিতা, মো. নাছির উদ্দিন, তাসনোভা মেহজাবীন আনিকা, প্রফুল্ল রঞ্জন দাশ ও মো. পেঠান। দলীয় সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেয়, কক্সবাজার ঝংকার শিল্পী গোষ্ঠী, ঝিনুকমালা খেলাঘর আসর, উখিয়া লোক শিল্পী পরিষদ। সবশেষে অনুষ্ঠিত হয়, রামুর ব্র্যাক দূর্জয় নাট্য সংগঠনের নাটক ‘ইভটিজিং’।







