বিএনপিতে নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যেদের সঠিক মূল্যাময়ন করা হচ্ছে না অভিযোগ করে ‘পকেট রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসতে বললেন দলের ভাইস চেয়ারম্যািন আবদুল্লাহ আল নোমান।
তা না হলে ওই নেতারা রাজনৈতিক তৎপরতার বদলে ‘নেতাদের পকেটের মধ্যেগ থাকবেন’ বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।খবর বিডিনিউজের।
শুক্রবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “যে পরিসরে যারা আছি, সেই পরিসরে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় যাতে নেতা যোগ্য হয়, নেতা তার অতীত কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করে যে, তিনি রাজনীতির কারণেই নেতা হয়েছেন। যদি সুযোগ পায় নেতাদের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসার, তাহলে সে কর্মের মধ্যে আর না থেকে পকেটের মধ্যে থাকবে। সেই পকেটের রাজনীতি আমাদের বাদ দিতে হবে।”
বিএনপি নেতৃত্বকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে, আমাদের দলেও সেভাবে মূল্যায়িত হচ্ছি না অথবা মূল্যায়ন করছি না। তাহলে স্বৈরাচারি শাসক, শেখ হাসিনা কর্তৃত্ববাদী শাসক আমার কাঁধের ওপর বসে আছে। এক পা দিয়ে আছে এখন, আরো ভালো ভাবে দুই পা দিয়ে চুল ধরে আমাকে তার মতো করে সে ব্যবহার করবে।”
ছয় বছর পর এ বছর বিএনপির কেন্দ্রীয় সম্মেলনের চার মাস পর অগাস্টে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যিদের নাম ঘোষণা হলে ‘মন খারাপের’ কথা জানিয়েছিলেন নোমান।
নতুন কমিটিতে বর্ষীয়ান এই নেতাকে টপকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয় চট্টগ্রামের আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং কক্সবাজারের সালাহ উদ্দিন আহমেদকে।
আমীর খসরু আগের কমিটিতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। সালাহ উদ্দিন ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব। খসরুর আগে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন নোমান।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিতে যুক্ত নোমানকে নতুন কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে সে সময় অভিযোগ করেছিলেন তার সমর্থকরা।
নয়া পল্টনে মহানগর বিএনপি কার্যালয়ের মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘রক্ত ঝরা মতিহার, ২২ ডিসেম্বর ১৯৮৪ স্মরণে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুহুল কবির রিজভী’ শিরোনামে আলোচনা সভায় বক্তব্যে দেন আবদুল্লাহ আল নোমান।
তিনি বলেন, “একটা কথা আছে- কলমে কালি যতক্ষণ না পাবে, ততক্ষণ লেখা যাবে না, কালি ছাড়া লেখা যায় না। কাজেই নেতৃত্বের অগ্রবাহিনীর দূরদর্শিতা, অগ্রবাহিনীর যথাযথ কৌশল যদি নির্ণয় করা না থাকে, আমাদের আন্দোলন সফল হবে না। সেই দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।”
শেখ হাসিনার সরকারকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ আখ্যাায়িত করে নোমান বলেন, “আসুন, তাদের ভোটে হোক, আন্দোলনে হোক পরাজিত করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলে আন্দোলনের যথার্থতা আসবে ও সফল হবে।
“গণতন্ত্রের জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হবে, আন্দোলন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।”
সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীরের পরিচালনায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।






