আমাদের রামু প্রতিবেদক:
সৌদি প্রবাসী যুবক আবুল কালাম আজাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত উচ্চ বিদ্যালয় অন্ধকার জনপদে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠির শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে ২০১১ সালে কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিন মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চাইল্যাতলী নামক অবহেলিত জনপদে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়।
শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতা থাকলেও উদ্যোমী আবুল কালাম আজাদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় একের পর এক সফলতা আসে বিদ্যালয়ে। যা নিয়ে রীতিমতো হতবাক উপজেলার অনেক প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত দুই বছর জেএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ অর্জন সহ শতভাগ পাস করা একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত ২০১৬ সালের জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রামু উপজেলার একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২জন জিপিএ-৫ অর্জনসহ শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এনিয়ে শতভাগ পাশের ধারাবাহিকতা ধরে রাখায় বিদ্যালয়টি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ আমাদের রামু কে জানিয়েছেন, এ বিদ্যালয় থেকে চলতি সনে জেএসসি পরীক্ষায় ৬০ জন ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। এরমধ্যে প্রকাশিত ফলাফলে বিদ্যালয়টির সকল শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে শাহীন সুলতানা ও মুবিনুল হক নামের দুই শিক্ষার্থী। এছাড়াও ৬০ জনের মধ্যে ২জন এ প্লাস, ৩৪ জন এ গ্রেড, ১৯ জন এ মাইনাস, ৫ জন বি গ্রেড পেয়েছে। পাশের হার ১০০%। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য তিনি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন আরো জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কালাম আজাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিন মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চাইল্যাতলী অবহেলিত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন জনপদ। চির অবহেলিত চাইল্যাতলী ও আশে পাশের ১২-১৫ টি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা দীর্ঘদিন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলো। দূরত্বের কারণে অনেকে লেখাপড়া চালিয়ে আসলেও অর্থাভাবে অনেক দরিদ্র ঘরের ছেলেমেয়েরা শিক্ষাজীবন থেকে অকালে ঝরে পড়তো। কিন্তু এখন সেই অন্ধকার জনপদ চাইল্যাতলী গ্রামে আলো ছড়াচ্ছে একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়।
একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধি করায় বেশী প্রয়োজন। পুরো বছর জুড়ে বিদ্যালয়ে পাঠদান সহ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি। বছর শেষে ভালো ফলাফল দেখে পুরো বছরের কষ্ট দূর হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের জন্য তিনি শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিকতা রয়েছে। যার ফলে সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করবেন বলে জানান।
জানা গেছে, প্রজন্ম’৯৫ মেধা বৃত্তি পরীক্ষায় একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিগত ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে বৃত্তি লাভ করে। এছাড়া উপজেলা ও জেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আবুল কালাম আজাদের দুঃসাহসিক উদ্যোগের ফলে এখন এলাকার শিশু-শিক্ষার্থীরা শিক্ষা অর্জনে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। উপকৃত হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ গ্রামের শিশুরা আগামীতে দেশ গড়ার কাজে নিবেদিত হবে।






