সোয়েব সাঈদ:
রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের অতিদূর্গম ও দরিদ্র জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত অঞ্চলে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ঘিলাতলী আদর্শ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোন সরকারি সহায়তা ছাড়াই চলে বিদ্যালয়ের পাঠদান। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৪জন শিক্ষক ১যুগ ধরে বিনাবেতনে পাঠদান করে যাচ্ছেন।
২০১০ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আর প্রতি বছর এসব পরীক্ষায় পাসের হার ১০০ ভাগ। এলাকার শিক্ষা পাগল মানুষ কেবল বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন তা নয়, বিদ্যালয়ের জন্য ক্রয় করা ৩৩ শতক জমিও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের নামে নামজারি করেছেন।
তবে এলাকাবাসীর দুঃখ, জাতীয়করণের জন্য বিদ্যালয়টি সর্বক্ষেত্রে যোগ্যতার দাবি রাখলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। যার ফলে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঘিলাতলী আদর্শ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। একারনে আশপাশের অনেক গ্রামের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের একমাত্র ভরসাস্থ এ বিদ্যালয়।
ঘিলাতলী আদর্শ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খালেদ আমাদের রামু কে জানিয়েছেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত দুই শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই শতাধিক। ২০১০ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে। ২০১৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য এ বিদ্যালয়ের ১৮ জন ছাত্রছাত্রীকে ডিআর দেয়া হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়টিকে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
রামু-কক্সবাজার আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল আমাদের রামু কে জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টি স্থাপনের সন, রেজিঃ দলিল, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন, পরিদর্শনের রেকর্ড সহ সার্বিক বিবেচনায় জাতীয়করণ হওয়ার অধিকার রাখে। বিষয়টি তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এজন্য তিনি আরো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
রামু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছালামত উল্লাহ আমাদের রামু কে জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম সন্তোষজনক। বেসরকারি এ প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে ৩য় ধাপে জাতীয়করণের অর্ন্তভূক্তির আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রামুতে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যলিয় জাতীয়করণ এবং শিক্ষকদের চাকুরি সরকারিকরণের উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় যাচাই বাছাই ও অধিগ্রহনের জন্য বিদ্যালয়টি উপযুক্ত ও শিক্ষকগণের কাগজপত্রাদি প্রজ্ঞাপন অনুসারে সঠিক হওয়ায় সুপারিশসহ জেলা যাচাই বাছাই কমিটির কাছে প্রেরণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কবির আহমদ জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দেয়া আবেদনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের জনবিভাগ সচিব জোর সুপারিশ করেন।
এছাড়া রামু উপজেলার কয়েকজন নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অনেক সরকারি উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ইতিপূর্বে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষা কার্যক্রমে সন্তোষ জানান।






