নঈম আল ইস্পাহান:
আমি তাকে প্রথমবার দেখেছিলাম এক কাক ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে।স্কুল ড্রেস পরা এক শান্তশিষ্ট,কোমল চেহারার মেয়ে।প্রথম দেখাতে তাকে আমার তেমন একটা ভালো লাগেনি।মনে হয়েছিল,ইশ!আরেকটু সুন্দরী হলে কি এমন হত?আরেকটু হ্যাংলা হলে কি ভালো হতনা?আমার মনে হয়েছিল এই মেয়েকে ভালোবাসা যাবেনা।আমার মনের সাথে একটু ও মিল নেই।
কিন্তু,দিন যত যায় আমার বুকের ভেতর তার জন্য এক ধরণের হাহাকার বাড়তে থাকে।তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে।তাকে এক পলক দেখতে মনটা আনচান করে।হোক না সে একটু মোটা,কম ফর্সা।ভালোবাসা কি আর গায়ের রঙ দেখে হয়?স্লিম ফিটনেস দেখে হয়?না,কখনোই না।আমি বুঝতে পারলাম,তার রূপ,শরীর কিছুই আমার চাইনা।আমি তার মনে নিজের সুখের জন্য একটুকু স্থান পেতে চাই।যেখানে পরম মমতায় চাঁদনি রাতে তার কোলে মুখ গুঁজিয়ে সুখ-দুঃখের কথা বলা যাবে।
আমার ভালোবাসা দিন দিন বাড়তে থাকে।পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার তাগিদে আমার সময় কেটে যায়।কখনো তাকে কষ্ট দেয়না।সে ও আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে।আমার চেয়ে অনেক বেশিই!দুজনে স্বপ্ন দেখি আমাদের ছোট্র একটি সংসার হবে।আমি বাবা আর সে মা হবে।সকালবেলা আমাকে অফিসে পাঠিয়ে সে ও তার অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হবে।সন্ধ্যায় দুজন আবার এক হবো।এক সাথে চা কিংবা কপির মগে আড্ডার ফাঁকে চুমুক দিবো।রাতের খাবার একসাথে বানাবো।যেদিন রাঁধতে ইচ্ছে করবেনা সেদিন বাইরে কোন ভাল রেষ্টুরেন্টে খেয়ে আসব।প্রতি সপ্তাহে একদিন আমরা সারারাত ঘুমাবোনা।সেদিন সে নববধূর মতো সাজবে।মাথায় আমার প্রিয় শিউলি ফুল গুঁজানো থাকবে।হলুদ শাড়ি পরবে।সারারাত তার কোমর জড়িয়ে ধরে দুজন আড্ডা দিব।একে অপরকে দেখব।সে ঘুমিয়ে গেলে আমি একাকি রাত তার মুগ্ধতায় কাটিয়ে দিব।
দেখতে দেখতে সময় কেটে যায়।সে স্কুল পেরিয়ে কলেজের গন্ডি প্রায় শেষের মূহুর্তে।আমরা আমাদের স্বপ্নের খুব কাছাকাছি।ঠিক সেসময় তার পরিবারে আমাদের সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়ে যায়।তাকে তার বাবা-মা প্রচন্ড বকাঝকা করে।গায়ে হাত তোলে।ভয় দেখায় যেন কিছুতেই আমার সাথে যোগাযোগ না করে।সে আমাকে এড়িয়ে যায়।আমার জন্য তো আর সে নিজের ক্যারিয়ার ধবংস করতে পারবেনা।
আমি তার সাথে দেখা করতে গেলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়।যদি আবার তার আশে পাশে কেউ আমাকে দেখে ফেলে!তখন পড়ালেখা বন্ধ করে দিবে।তারপর কোন সৌদি কিংবা দুবাই প্রবাসী ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিবে।
মেয়েরা অদ্ভুত জাতি।সবসময় চাপে থাকে।কখনো পরিবারে বাবা,মায়ের চাপ।কখনো বড় ভাই,বোনের চাপ।বিয়ের পর শ্বাশুর,শ্বাশুরির চাপ।আবার,স্বামীর চাপে কেটে যায় পুরোটা জীবন।আমি সবার মত তাকে চাপ দিতে চাইনা।বলতে চাইনা কেন দূরে সরে গেছ?না,থাক।আম ু জানি সে আমাকে ভালোবাসে।আমি বিশ্বাস করি যতদূরেই থাকুক না কেন,সে আমাকে ভালোবেসেই যাবে।হোক না সে হাজার চাপের ভীড়ে।আমি চাই একটু সুখে কাটুক তার জীবন অন্তত আমার ভালোবাসার চাদরে মুড়ানো চাপহীন ব্যস্ত বিকেলের বেলকনিতে!
লেখক: কক্সবাজার সরকারি কলেজ।






