আমাদের রামু প্রতিবেদক:
রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারে স্মৃতি বিজড়িত শুভ মাঘী পুর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে।
সকাল ৯টায় অন্নদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অন্নদান গ্রহণে রামুসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভিক্ষুসংঘ অংশগ্রহণ করেন। পিন্ডাচরণ বা অন্নদানের পরপর শুরু হয় সংঘদানও ধর্মালোচনা সভা।
একুশে পদকে ভূষিত পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান ধর্মদেশকের দেশনা দান করেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিনবোধি মহাথের। দেশনা দান করেন বাশঁখালী শীলকুপ কেন্দ্রীয় চৈত্য বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত আর্যপ্রিয় মহাথের। উদ্বোধনী ধর্মদেশনা দান করেন উত্তরমিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভদন্ত করুণাশ্রী থের।
এদিকে দুপুর বারটার পরে সীমা বিহারে উপস্থিত হন অনুষ্ঠানের সংবর্ধিত অতিথি কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।
বিকাল তিনটার দিকে রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুর সঞ্চালনায় শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের সভা। এতে প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান এনডিসি, এমফডব্লিউসি, পিএসসি, পিএইচডি, জিওসি, ১০ পদাতিক ডিভিশন রামু সেনানিবাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর পিএসসি।
প্রধান জ্ঞাতির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-রামু ৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম এবং ফতেঁখারকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর পিএসসি বলেন, ‘আমি আজকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে খুবই আনন্দিত। বৌদ্ধ দর্শন সম্পর্কে আগে থেকে আমারও অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। বৌদ্ধধর্মের সব থেকে বড় নিয়ম হচ্ছে সবাইকে প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই নীতি মানতে পারলে বিশ্বে আজ এত অশান্তি হত না। আমরা আপনাদের একেবারে কাছেই থাকি। যেকোন সময়ে আপনারা আপনাদের পাশে আমাদেরকে পাবেন।’
প্রধান জ্ঞাতির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, ‘রামু এখন অভাবনীয় উন্নয়নের পথে হাটছে। অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়ে রামুতে সর্বাধিক উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা আগের মত দুর্বল নেই। যেকোন অপশক্তিকে রুঁখে দেওয়ার সামর্থ্য এখন আমাদের আছে। সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের প্রতিহত করার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি। ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।’
অনুষ্ঠানে ধর্ম দেশনা দান করেন লাকসাম মজলিশপুর ধর্মাংকুর বেীদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথের, ঢাকা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত সুনন্দপ্রিয় থের, রামু সীমা বিহারের ভদন্ত শীলপ্রিয় থের এবং রামু উখিয়ারঘোনা জেতবন বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত সত্যরত্ন থের প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সাধারণ সম্পাদক তরুন বড়ুয়া।








