এম.এ আজিজ রাসেল:
মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুণতলী পূর্বদিকের গভীর পাহাড়ে অস্ত্রকারিগর ও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে খুইল্যা নামে এক অস্ত্রকারিগর নিহত হয়েছে। সে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মাঝেরডেইল এলাকার মৃত আজম উল্লাহ’র ছেলে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ১৩টি বন্দুক ও ৩২ রাউন্ড তাজা কাতুর্জ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে আহত হয়েছে ৭ পুলিশ সদস্য।
মহেশখালী থানা সূত্রে জানা যায়, হোয়ানক ইউনিয়নের গভীর পাহাড়ে অস্ত্রকারীগর ও সন্ত্রাসীরা একত্রিত হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই গোপনে সংবাদ পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশ সুপার ড.একেএম ইকবাল হোসেন এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি ইউনিট এবং মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
এসময় অস্ত্র কারিগররা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলি ছোঁড়ে। জবাবে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। অন্যান্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অস্ত্রকারিগর খুইল্যা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে কর্তব্যরত মৃত ঘোষনা করেন। নিহত খুইল্যা মিয়া ডাকাতের মৃত দেহ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।
ওই অস্ত্রকারীগরের আস্তানায় ব্যাপক তল্লাশী চালিয়ে দেশীয় তৈরী বিভিন্ন রকমের ১৩টি বন্দুক ও ৩২ রাউন্ড তাজা কাতুর্জ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় আহত হয় মহেশখালী থানার এসআই হারুনর রশিদ, এসআই মিনহাজ, এএসআই মানিক, এএসআই সনজিত, কনষ্টেবল মিঠুন, কনষ্টেবল রুবেল। আহত পুলিশ সদস্যদের মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযান শেষে পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন দুপুর ২টায় সাংবাদিকদের জানান, অস্ত্রকারিগররা ও সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের গভীর অরণ্যে আস্তানায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
নিজস্ব সোর্স এর মাধ্যমে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এধরনের অস্ত্রকারিগর ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো-টলারেন্স ভূমিকায় থাকবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, অভিযানে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পুলিশ সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে ১৩ টি অস্ত্র ও ৩৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, নিহত খুইল্যা একজন পেশাদার অস্ত্র তৈরীর কারীগর। তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলায় ৩০ বছরের সাজাসহ ডজনখানেক বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। সে আন্তঃ জেলার শীর্ষ অস্ত্রকারিগরের সর্দার। দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ অস্ত্র তৈরী করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে আসছে সে।
এদিকে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত খুল্যার মৃত্যেুর সংবাদ মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে অনেক জায়গায় মিষ্টি বিতরণ করা হয় বলে জানা যায়।







