ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে ‘গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সরকার ছলচাতুরি-প্রতারণা করে ৫ জানুয়ারির মতো ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম’ এ সভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন করলে তো হবে না, বরং সেই নির্বাচনের লক্ষ্য কী সেটি উপলব্ধি করতে হবে। আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি গণতান্ত্রিক সরকার চাই। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে আমরা নির্বাচন বলতে পারি? আজকে একই কায়দায় আবার ছলচাতুরি করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী গোল করতে চায় আওয়ামী লীগ।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু নির্বাচন বিষয় নয়, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। ৫ জানুয়ারিতে যে ধরনের নির্বাচন হয়েছে সেটি কোনো নির্বাচন নয়।’
দেশের কোথাও গণতন্ত্র নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণকে বোকা বানানোর জন্য সরকার গণতন্ত্রের কথা বলে। আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র এ-দুটো অতীতেও একসঙ্গে যায়নি এখনও যায় না।
‘আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে ক্ষমতায় যাবে আর ক্ষমতায় গিয়ে মনে করবে গোটা রাষ্ট্রটা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। তারা যেমন খুশি তেমনভাবে ব্যবহার করবে, এখানে আইন বলে কোনো কিছু থাকবে না। রাষ্ট্রের যে বিধান রয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের যে চুক্তি তার পরোয়া করে না আওয়ামী লীগ।’
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রটা হচ্ছে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। আইনে বাধ্য। অথচ আইন তো মানুষের জন্য। যে আইন মানুষের উপকারে আসবে না মানুষের কল্যাণ করবে না, যে আইন নাগরিকতার অধিকার পাবে না সে আইন তো আইন নয়।’
তারেক রহমান সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের শিকার মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে চক্রান্ত সফল হতে পারেনি, পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের দর্শন স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সেই পতাকা তুলে ধরেছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তারপরে যখন এই পতাকা হাতে একজন সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তারেক রহমান সামনে এগিয়ে আসছিলেন তখনই তার ওপর আঘাত আসে।’
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জেগে উঠতে হবে। জেগে উঠে নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করে সোচ্চার হয়ে এই অন্যায়কে পরাজিত করতে হবে। শুধু বছরে একটি দিন কারামুক্তি ও কারাদিবস পালন করে কোনো লাভ হবে না। আন্দোলন করে তাকে (তারেক রহমান) দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শওকত মাহমুদ, ড. মামুন আহমেদ, রুহুল কবির রিজভী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, বিলকিস জাহান শিরিন, অধ্যাপক উবায়দুর রহমান, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কামরুজ্জামান রতন, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আলিমুল ইসলাম আলিম, হাবিবুর রশিদ হাবিব, ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ।
এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া, উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফিক, বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম সভাপতি মো. সাব্বির আহমেদ, ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সূত্র: রাইজিংবিডি।






