মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া:
”একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না ৷” বেশির ভাগ দূর্ঘটনার জন্যে অবশ্যই চালকেরাই দায়ী ৷ এই মূহুর্ত থেকে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল অার দেখতে চাইনা ৷ গাড়ির মালিকেরা ড্রাইভার নিয়োগ দেয়ার পূর্বে নিশ্চিত হতে হবে চালক মাদক সেবন করে কিনা ৷ নেশাগ্রস্থ অথবা ঘুমকাতুরে হয়ে গাড়ি চালায় কিনা ৷ অদক্ষ,অাদাদক্ষ এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরদেরকে দিয়ে গাড়ী পরিচালনা করাবেননা ৷ গাড়ির অনেক মালিক অাছেন বেশিক্ষণ গাড়ি চালানোর জন্যেও অনেক সময় চালককে বাধ্য করে ৷ অনেক ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দেওয়া হয় ৷ বাড়তি চাপ নিতে গিয়ে অনেক চালক অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালায় এবং দূর্ঘটনায় পড়ে ৷
চালকদের কাছে প্রত্যাশা অাপনারা গাড়ি চালাতে চালাতে হেড ফোনে গান শুনবেন না,গাড়িতে যখন উঠবেন তখন মোবাইল ফোন সাথে রাখবেন না ৷ মেয়াদ উত্তীর্ণ,কাঠামো পরিবর্তিত ও অবৈধ গাড়ী পরিচালনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন ৷ মোটরযান অাইন অনুযায়ী মূল কাঠামো অথবা অাকার অাকৃতির পরিবর্তন অবৈধ ৷ অাইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ট্রাকগুলোর পেচনটায় লোহার এঙ্গেল দেওয়া হয়েছে অবৈধ ভাবে বেশি মালামাল পরিবহনের জন্যে ৷ কাভার্ড ও ডেলিভারী ভ্যানের মালামাল পরিবহনের সুবিধার জন্যে পাশে,পেচনে ও উপরেরদিকে চওড়া করে বহন ক্ষমতা তিনগুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে ৷ ফিটনেস বিহীন গাড়ী উঠিয়ে দেওয়া উচিত ৷ চালকেরা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় গাড়ী চালনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন ৷ সড়কে বেপরোয়া গতির জন্যে প্রায় ৯০% দূর্ঘটনা সংঘটিত হয় ৷ ড্রাইভারদেরকে অযথা ওভারটেকিং মানসিকতা ও অন্যান্য সকল অনিয়ম থেকে বেরিয়ে অাসতে হবে ৷ না হয় প্রশাসনিক ভাবে জরিমানা ও শাস্তির ব্যাবস্থা করতে হবে ৷ হাইওয়ে পুলিশ থাকলে ও পুলিশদের অনেকেই অর্থের বিনিময়ে সংঘটিত সবধরনের অনিয়ম ও অদক্ষ চালকদেরকে শাস্তি ও জরিমানা থেকে রেহাই দিয়ে থাকেন ৷ এমন অবস্থা থেকে অবশ্যই বেরিয়ে অাসতে হবে ৷
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রথমেই প্রয়োজন দক্ষ ড্রাইভার দ্বারা যানবাহন পরিচালনার ব্যবস্থা করা ৷ প্রাণীর ছবি চিনতে পারলেই একজন ড্রাইভার, এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে সঠিক ভাবে দক্ষ ড্রাইভার তৈরীর ব্যবস্থার দিকে নজর দেয়া ৷ অদক্ষ ড্রাইবার যেন কোন ক্রমেই পরিবহন পরিচালনা না করতে পারে তার চিরস্থায়ী ব্যবস্থা করা ৷
পরবর্তী পদক্ষেপে প্রয়োজন ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন পরিহার করা ৷ যানবাহনের কাগজ পত্র পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে এর সমাধান করা ৷ যানবাহনের কাগজ পত্র পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর তাৎক্ষণিক ঐ পরিবহন প্রত্যাহার করে নেওয়া ৷ পরবর্তী সময়ে উক্ত যান যেন কোন ক্রমেই সড়কে বের হতে না পারে তার স্থায়ী ব্যবস্থা করে নেওয়া ৷
ফুট ওভার ব্রিজের ব্যবস্থা করা ৷ ব্যাপক হারে যেখানে যেখানে প্রযোজ্য সেখানে ওভার ব্রিজের ব্যবস্থা করে নেয়া ৷
ঘুষের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে সর্বপরি পরিবহনের সকল ক্ষেত্রে অাইনের যথাযত সঠিক প্রয়োগের ব্যবস্থা করা ৷
পূর্ব ঘোষনা ছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানী সহ সারা দেশে সড়ক পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছিল পরিবহন শ্রমিকেরা ৷
পূর্ব ঘোষনা ছাড়া জন দুর্ভোগের এমন একটি বিষয় অনাকাঙ্খিত অমানবিক ৷এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা ৷যারা বাস না চালানোর পাশাপাশি লাঠি সোঁটা নিয় অন্যান্য পরিবহন চালাতেও বাধা দেয়৷ অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল যেতে চাইলেও শ্রমিকরা বাধা
দেয় ৷ মাইক্রোবাস ,সিএনজি গ্যাস চালিত অটো রিক্সা ,ইজিবাইক চলাচলেও তারা বাধা দেয় ৷এতে জনদূর্ভোগের পাশাপাশি পচনশীল পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়ে ব্যবসায়ীরা , কর্মজীবি যাত্রীদের অনেকেই রাজধানীতে টিকেট কেটেও কাউন্টার ও পরিবহন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়ে ৷কথাগুলো বললাম
বাস্তব ভোগান্তিগুলো পরিহার করার জন্যে ৷ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অবহিত করে বৃহত্তর জনস্বার্থে
এক দশক থেকে করতে না পারা সড়ক পরিবহন অাইনটি অবশ্যই করে নেওয়া৷
সড়কের শৃঙ্খলার জন্য বেশি বেশি ভ্রাম্যমাণ অাদালত পরিচালনা করা ৷ যারা যাত্রী ভোগান্তির জন্যে দায়ী,তারা নিজেদেরকে যাত্রীর পর্যায়ে রেখে চিন্তা করলে বুঝতে পারবে কতটা অমানবিক কাজ তাদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে ৷ পর্যায় ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অাইন করা এবং সড়ক পরিবহন অাইন এর সঠিক ও কঠোর প্রয়োগের ব্যবস্থা করা ৷
লেখকঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া
লাকসাম,কুমিল্লা ৷







