হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যকে আরও এগিয়ে নিতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে বাণিজ্যিক ট্রানজিট (স্থলবন্দর) নির্মিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার সকালে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করবেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি। এটি নির্মিত হলে সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় চার লাখ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দু’দেশের প্রয়োজন মাফিক আমদানী-রপ্তানির নতুন এক দীগন্ত উম্মোচিত হবে।
তবে নাইক্ষ্যংছড়ির বাকি চার ইউনিয়নের (সদর, দোছড়ি, সোনাইছড়ি ও বাইশারী) পাশাপাশি রামুর গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ার পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সদর ইউনিয়নের চাকঢালায় আরও একটি বাণিজ্যিক ট্রানজিট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। তারই ধারাবাহিকতায় দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে বৃহস্পতিবার (৯মার্চ) সকালে চাকঢালা সীমান্তে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বিষয়টির গুরুত্ব তোলেধরে এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম সরওয়ার কামাল বলেন, ‘মন্ত্রী শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় ঘুমধুমের প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক ট্রানজিটের জায়গা পরিদর্শন করবেন। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’ ঘুমধুমের পাশাপাশি চাকঢালাতেও বাণিজ্যিক ট্রানজিট নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ.কে.এম. জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘পরিবেশ, পরিস্থিতি ও সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় স্থলবন্দর নির্মাণের জন্য ঘুমধুম’ই উপযুক্ত স্থান। এটি স্থাপিত হলে নাইক্ষ্যংছড়িসহ পাশ্ববর্তী উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ উপকৃত হবে।’
নাইক্ষংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগনেতা অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের চাকঢালা ও মিয়ানমারের ওয়ালিডং এলাকার ওপর দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে সীমান্তের লোকজন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দু’দেশের স্থানীয় গরীব জনসাধারণের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানী রপ্তানি করে থাকেন। এসব কারণেই চাকঢালা পয়েন্টে বাণিজ্যিক ট্রানজিট নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘সদর ইউনিয়নের চাকঢালা সড়ক দিয়ে বাণিজ্যিক ট্রানজিট নির্মিত হলে অবৈধভাবে আমদানী-রপ্তানী বন্ধসহ সহজ যাতায়তের মাধ্যমে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে। এতে করে সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন বঞ্চিত জনসাধারণের কর্মসংস্থানসহ দু’দেশের বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক লেনদেনে অগ্রগতি সাধিত হবে।’
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মামুন শিমুল বলেন, ‘সরকার পার্বত্য এলাকায় তিনটি বাণিজ্যিক ট্রানজিট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ক্ষেত্রে ঘুমধুম এবং চাকঢালা সীমান্ত পয়েন্ট হচ্ছে অন্যতম উপযুক্ত দুটি স্থান। ঘুমধুমের পাশাপাশি আমরা চায় চাকঢালাতেও একটি বাণিজ্যিক ট্রানজিট নির্মিত হোক।’






