আবদুল হামিদ ও হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী:
দেশের নানা প্রান্তে ২৩টি বাণিজ্যিক ট্রানজিটের (স্থলবন্দর) মধ্যে দশটিতে পুরোদমে কাজ চলছে। আর এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম সফলতার প্রমান বলে মন্তব্য করেছেন, নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খাঁন এমপি। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে কাগজে কলমে বারোটি বাণিজ্যিক ট্রানজিটের নাম থাকলেও কার্যকর ছিলো মাত্র দুটি।
তিনি বলেন, বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, চাকঢালা এবং রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১টি করে তিন পার্বত্য জেলায় মিয়ানমার ও ভারতের সাথে ৪টি স্থল বন্দর স্থাপন করা হবে। এতে করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মসামাজিক উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন- বান্দরবানের ঘুমধুমে এবং চাকঢালা স্থল বন্দর নির্মাণ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়িসহ আশপাশের কয়েক লাখ মানুষ উপকৃত হবে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক ট্রানজিট চালু হলে সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফের কয়েক লাখ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দু’দেশের প্রয়োজন মাফিক আমদানী-রপ্তানির এক নব দীগন্ত উম্মোচিত হবে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। সদর ইউনিয়নের চাকঢালা সীমান্তেও একটি বাণিজ্যিক ট্রানজিট নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত একটি দেশ গঠনের যে স্বপ্ন ছিল-তা বাস্তবায়নের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সাথে বাণিজ্যিক ট্রানজিট চালু করতে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী শাহজাহান খাঁন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। এ নিয়ে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দাতা সংস্থা কাজ করছে। আমাদের সাথে মিয়ানমার সরকারের সুসম্পর্ক রয়েছে বিধায় দ্রুত বাণিজ্যিক ট্রানজিট চালুর জন্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার ১০মার্চ সকালে বান্দরবান জেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে সম্ভাব্য সীমান্ত স্থল বন্দর পরিদর্শণ কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে নৌ ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়, স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান মোঃ আলাউদ্দিন ফকির, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, বান্দরবান পৌর সভার মেয়র ইসলাম বেবী, বান্দরবান জেলা প্রশাসক দীলিক কুমার বণিক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আলী হোসেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস,এম সরওয়ার কামাল, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচএম তৌহিদ কবির, উখিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল খাইর, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী, সদস্য সচিব মো: ইমরান মেম্বার, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ, সাবেক চেয়ারম্যান দীপক বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশন ও আওয়ামীলীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আলহাজ্ব খায়রুল বাশার।








