এম.এ আজিজ রাসেল:
জেলায় সপ্তাহ জুড়ে ভারী বর্ষণে ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফাল্গুনে হঠাৎ এই বৃষ্টিপাত অনেকেরই মাথায় আসেনি। যার খেসারত দিতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এতে অর্ধশত কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রামুতে বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্থ ইটভাটা ঘুরে জানা যায়, জেলায় বর্তমানে ইট তৈরির মৌসুম চলছে। প্রতিটি ইটভাটায় মালিক ও শতাধিক শ্রমিক ইট তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রত্যেক মৌসুমে এ সব ভাটায় কয়েক দফায় ইট তৈরি করা হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ভাটায় বছরে ৫০ থেকে ৫৫ লাখ ইট তৈরি হয়। চলমান সময়ে কোনো কোনো ভাটায় দ্বিতীয় দফা, আবার কোনো ভাটায় তৃতীয় দফায় ইট তৈরি করা হচ্ছিল। ভাটা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক হাজার ইট তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৬ হাজার টাকা এবং এক লাখ ইট তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। বেশ কয়েকদিন ধরে ভাটা মালিকরা কাঁচা ইট তৈরি করে রোদে শুকিয়ে তা পুড়িয়ে পাঁকা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু মুসলধারে বৃষ্টির কারণে পানিতে ভিজে সদ্য তৈরি কাঁচা ইট ভেঙে নষ্ট হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। জেলার ৫০-৬০টি ইটভাটা মালিকের বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি অর্ধশত কোটির বেশি।
রামু ইটভাটা মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান কোম্পানী জানান, ছয় দিনের বৃষ্টিতে কাঁচা ইটের ভীষণ ক্ষতি হয়েছে। যে ক্ষতি এই মৌসুমে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ বছর বড় অংকের লোকসান গুণতে হবে। অনেকেই ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা করছে। বৃষ্টির কারণে অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলঘরে ইটভাটার মালিক নুরুল হক কোম্পানী জানান, কয়েকদিন আগে তৈরি করা ইট রোদে শুকানো হচ্ছিল। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে ইটগুলো গলে মাটিতে মিশে গেছে। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসহ মাঠ পরিস্কার করতে অতিরিক্ত অনেক টাকা খরচ হবে।
ঈদগাও, চকরিয়া, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার শতাধিক ইটভাটায় পোড়ানোর অপেক্ষায় থাকা বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ইটভাটা মালিকদের ইট পোড়ানোর কাজ আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নতুন করে এ বছর ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করতে পারবেন না। এতে এ বছর ইটের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইটের সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
উখিয়ার জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এমনিতে নানা কারণে ইটের ব্যবসা এখন আর আগের মতো লাভজনক নেই। অকাল ভারী বর্ষণে ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নানা উপকরণ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বাজারে এই ক্ষতি পুষিয়ে অনেকের পক্ষে ইট উৎপাদনে ফিরে আসা দুরূহ হয়ে পড়বে। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নতুন করে এ বছর ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করতে পারবেন না।
ঈদগাঁও ইটভাটার মালিক সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, আকস্মিক বৃষ্টিতে ইটভাটা মালিকদের চরম ক্ষতি হয়েছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ না পেলে অনেকেই আর ইট তৈরি করতে পারবেন না। হঠাৎ বৃষ্টিতে ইটভাটার অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।






